খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 23শে বৈশাখ ১৪৩২ | ৬ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ক্লাসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করায় বগুড়ার আদমদীঘির ছাতিয়ানগ্রাম ইউপির কৈকুড়ী রহিম-মজিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিয়ার রহমানকে একই বিদ্যালয়ের হৃদয় নামের দশম শ্রেণির এক ছাত্র মারধর করে আহত করেছে।
সোমবার (৫ মে) বেলা ১১টায় ওই ছাত্রসহ জড়িতদের শাস্তি চেয়ে প্রথমে বিদ্যালয় মাঠে এবং পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে তারা বলেন, হৃদয় অত্যন্ত বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। তার উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, মাদক সেবন, ইভটিজিং এবং মাত্রাতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য প্রধান শিক্ষক আতিয়ার রহমান ক্লাসে তাকে উপদেশ দেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে হৃদয়। এরপর তার ফুপু একই স্কুলের শিক্ষক দুলালী খাতুনের প্ররোচনায় প্রধান শিক্ষককে হত্যার উদ্দেশ্যে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করে মুখের ঠোঁট ও নাকে জখম করে। মানববন্ধন শেষে ওই ছাত্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন- উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আবুল কালাম আজাদ, তিলোচ শিববাটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম, কৈকুড়ী রহিম-মজিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহম্মেদ, সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ও নূরুল ইসলাম প্রমুখ।
আহত শিক্ষক আতিয়ার রহমান বলেন, দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে হৃদয়কে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষেধ করার পর সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার অফিসে এসে হুমকি দিয়ে চলে যায়। এরপর সকল শিক্ষকদের নিয়ে হৃদয়ের আচরণ এবং কর্মকাণ্ডের বিষয় অবগত করতে একটি মিটিং করি। সেখানে হৃদয়ের ফুপু অর্থাৎ শিক্ষক দুলালী খাতুনও উপস্থিত ছিলেন। সম্ভবত তিনি বিষয়টি বাড়িতে গিয়ে জানিয়েছেন।
এরপর গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় হৃদয়ের বাড়ির পাশে আমার মাছ চাষের পুকুরে খাবার দিতে গেলে তার মায়ের সামনেই এলোপাতাড়িভাবে আমাকে মারধর করে রক্তাক্ত করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন। পরের দিন আমার স্ত্রী আম্বিয়া আক্তার বাদী হয়ে হৃদয়, তার বাবা-মা ও ফুপুর বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামলার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
খবরওয়ালা/এমইউ