কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদীর তীরবর্তী এলাকা ও লালন আবাসন প্রকল্পের পাশে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের লালনবাজার এলাকায় নদীর তীর ঘেঁষে প্রতিদিন শত শত গাড়ি করে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে গ্রাম রক্ষা বাঁধ, লালন আবাসনের অন্তত ৪০টি বসতঘর এবং স্থানীয়দের চলাচলের একমাত্র কাঁচা সড়কটি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মৃত হাতেম আলীর ছেলে প্রভাবশালী পান্না শেখ (৩৫) গত শুক্রবার (৯ মে) থেকে নিজ মালিকানাধীন জমি থেকে ভেকু দিয়ে গভীরভাবে মাটি কেটে নিচ্ছেন। ওই জমি নদী তীরবর্তী হওয়ায় মাটি কাটা কার্যক্রম সরাসরি প্রভাব ফেলছে বাঁধ, আবাসন প্রকল্প এবং সড়কের স্থায়িত্বে। কাটা মাটি প্রতিদিন লাটাহাম্বা গাড়িতে করে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
সোমবার (১২ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, গড়াই নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত লালন আবাসন প্রকল্পের জরাজীর্ণ ঘরগুলোতে অন্তত ৪০টি পরিবার বসবাস করছে। আবাসনের একমাত্র কাঁচা সড়ক এবং গ্রামের রক্ষা বাঁধ থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরেই চলছে মাটি কাটা। সেখানে গভীরভাবে পুকুর খনন করে মাটি তোলা হচ্ছে। প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটার ভেকুটি বন্ধ রেখে সটকে পড়েন পান্না শেখ।
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আগেও প্রতিবছর মাটি কাটা হতো। মাঝখানে কিছুদিন বন্ধ ছিল। এখন আবার পান্না শেখ মাটি কেটে ভাটায় দিচ্ছেন। গভীর গর্ত করে মাটি কাটার কারণে আগামী বর্ষায় নদীর পানি এলে বাঁধ ও সড়ক ভেঙে গিয়ে পুকুরে পড়ে যাবে।’ তাঁরা অবিলম্বে মাটি কাটা বন্ধের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে পান্না শেখ বলেন, ‘নিজের জমি থেকে পুকুর খনন করছি। মাছ চাষ করব। এতে অন্যদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’
তবে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন প্রশাসন। কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধভাবে কোথাও মাটি বা বালু কাটার সুযোগ নেই। খুব শিগগিরই অভিযান চালিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
খবরওয়ালা/আরডি