নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় দায়িত্বপালনকালে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমানের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া পিস্তলটি ২২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অস্ত্র উদ্ধারে এক পেশাদার ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় সোমবার ভোরে মোটরসাইকেলে এসে তিন ছিনতাইকারী এএসআই লুৎফর রহমানের উপর হামলা চালিয়ে তাঁর ব্যবহৃত গুলিভর্তি পিস্তল ছিনিয়ে নেন। ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশ ও ডিবির একাধিক দল অভিযান শুরু করে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা ব্যাপারীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০)কে আটক করা হয়। মিশাল শহরের দেওভোগ পানির ট্যাংক এলাকার প্রয়াত মিজানুর রহমানের ছেলে এবং পেশাদার ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত।
মিশালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্র উদ্ধারের সময় দুটি ম্যাগজিন এবং ১৬ রাউন্ড গুলি সহ পিস্তলটি পাওয়া গেছে। এছাড়া অভিযানকালে একটি চাপাতি, একটি ছোরা ও একটি বড় চাকু উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রীর বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো।
| ধরণ | পরিমাণ | অবস্থা/বিস্তারিত |
|---|---|---|
| পিস্তল | ১ | ছিনতাই হওয়া, গুলিসহ |
| ম্যাগজিন | ২ | পিস্তলের সাথে |
| গুলি | ১৬ | পিস্তলের জন্য প্রস্তুত |
| চাপাতি | ১ | ছিনতাইকারী ব্যবহারের জন্য |
| ছোরা | ১ | উদ্ধারকালে পাওয়া |
| বড় চাকু | ১ | উদ্ধারকালে পাওয়া |
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে মিশালকে পিস্তলসহ উপস্থিত করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিশাল স্বীকার করেছেন যে, অস্ত্রটি তিনি ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে নিয়েছিলেন। তার পাশাপাশি দুই সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, “অস্ত্রটি উদ্ধার হয়েছে এবং অভিযুক্ত পেশাদার ছিনতাইকারী। তাঁকে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়াও এএসআই লুৎফর রহমানের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে দস্যুতার মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, এই ঘটনার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ শহরে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের দ্রুততম সাঁড়াশি অভিযান ও অপরাধ দমনের সক্ষমতা প্রমাণিত হলো। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মিশাল দীর্ঘদিন ধরে শহরে বিভিন্ন ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।此次 অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা পুলিশের দক্ষতা ও তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রতিফলন হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
মোট কথা, নারায়ণগঞ্জ পুলিশের কার্যক্রমের ফলে শুধুমাত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, বরং শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হওয়ার দিকে অগ্রগতি ঘটেছে।