খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব থেকে ১২৭ কোটি টাকার ‘অস্বাভাবিক লেনদেন’ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। রোববার সিআইডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তারা বিষয়টি মানিলন্ডারিং ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সম্ভাবনার দিক থেকে তদন্ত করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে এই অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্ত ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চেক বইয়ে উল্লেখিত লেনদেনের মোট মূল্য প্রায় ২১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১২৭ কোটি টাকার লেনদেন স্বাভাবিক নয় এবং এটি সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অর্থায়ন ও মানিলন্ডারিং-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।”
সিআইডি আরও জানিয়েছে, “মূল অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে দ্রুত বাজেয়াপ্ত করতে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থ সরবরাহকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহের পেছনে কোনো শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কিনা, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।”
ফয়সাল করিম মাসুদের ব্যাংক লেনদেন ও মামলার পরিস্থিতি সংক্ষেপে:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রাথমিক অস্বাভাবিক লেনদেন | ১২৭ কোটি টাকা |
| চেক বইয়ে মোট উল্লেখিত লেনদেন | ২১৮ কোটি টাকা |
| বাজেয়াপ্ত করার জন্য রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ | ৬৫ লাখ টাকা |
| গ্রেপ্তার আসামি | ১০ জন (বাবা, মা, স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালক, সহযোগী ও ব্যবসায়ী) |
| দায় স্বীকার করেছেন | হুমায়ুন কবির, হাসি বেগম |
| অপর আসামি অবস্থান | রিমান্ডে / কারাগারে |
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে ওসমান হাদির ওপর রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল থেকে গুলি চালানো হয়। আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২২ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, যেখানে বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুর খবর আসে।
১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। মামলায় ফয়সাল ও অচেনা ব্যক্তিদের নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইডি বলেছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।