খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
অ্যাপলের চিপ উৎপাদন সম্প্রসারণে ভারতকে কেন্দ্র করে বড় উদ্যোগ নিচ্ছে প্রযুক্তি নির্মাতা ফক্সকন। ভারতীয় আইটি প্রতিষ্ঠান এইচসিএল গ্রুপের সঙ্গে যৌথভাবে দেশটির উত্তর প্রদেশে একটি আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে তারা। কারখানাটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি রুপি বা ৪৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে।
উত্তর প্রদেশের জেওয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটে নির্মিতব্য এ কারখানাটি ২০২৭ সালের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুরুতে এটি একটি ওএসএটি (আউটসোর্সড সেমিকনডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্ট) কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ, এখানে চিপ উৎপাদন না হলেও অন্যান্য দেশে তৈরি চিপের প্যাকেজিং ও টেস্টিং হবে।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভবিষ্যতে এই কারখানায় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, গাড়ি ও কম্পিউটারের জন্য ডিসপ্লে ড্রাইভার চিপ উৎপাদন করা হবে। এসব চিপ স্ক্রিনে ছবি, লেখা ও ভিডিও দেখানোর কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
এক প্রকল্প কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, “ভারতে এখনো উন্নতমানের চিপ তৈরির অবকাঠামো না থাকায় শুরুতে উৎপাদন সীমিত থাকবে।”
এই উদ্যোগকে ভারতের নিজস্ব চিপ ইন্ডাস্ট্রির ভিত্তি তৈরির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন নীতিনির্ধারকেরা। মন্ত্রী জানান, নতুন কারখানার মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা হবে ২০ হাজার ওয়েফার এবং এতে মাসে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ইউনিট চিপ তৈরি করা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্প শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেয়েও বড় কিছু—এটি অ্যাপলের চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারতে উৎপাদন স্থানান্তরের কৌশলের অংশ। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে অ্যাপল প্রধান নির্বাহী টিম কুক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে অ্যাপল ভারতকে বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হলে ভবিষ্যতে পণ্যের দামে তেমন বৃদ্ধি না ঘটিয়েই বৈশ্বিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হতে পারে।
ইতোমধ্যে ভারতে অ্যাপলের আইফোন সংযোজন দ্বিগুণ হয়েছে এবং এসব ফোন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এখন কোম্পানির লক্ষ্য হলো—ভারতেই এয়ারপডসসহ অন্যান্য ডিভাইস উৎপাদন।
যদিও ফক্সকনের এই কারখানার জন্য ভারত সরকার কী ধরনের প্রণোদনা দেবে, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি, তবে সরকার পরিচালিত সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প অনুযায়ী, এ ধরনের উদ্যোগে মূলধনী ব্যয়ের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি