অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
বয়সসীমা বাড়ানো, বিশেষ নিয়োগের ব্যবস্থা ও স্বতন্ত্র কোটা পুনর্বহালসহ পাঁচ দফা দাবিতে আবারও রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিবন্ধী গ্রাজুয়েট পরিষদ।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে তারা পরিষদের ব্যানারে অবস্থান নেন। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করলে শাহবাগ মোড়ে পুলিশ তাঁদের আটক করে।
চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিবন্ধীরা জানান, শিক্ষিত, যোগ্য ও কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী যুবকরা দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত। তারা ২০১৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ন্যায্য অধিকার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এখনো কর্মসংস্থানে অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিবন্ধী কোটা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
গত রোববার একই দাবিতে শাহবাগে অবস্থানের পর সমাজকল্যাণ উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় আজ আবারও তারা শাহবাগে অবস্থান নেন এবং যমুনামুখী পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন তারা। দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী শিক্ষিত বেকারদের প্রধান উপদেষ্টার নির্বাহী আদেশে বিশেষ নিয়োগ, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ২ শতাংশ ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণিতে ৫ শতাংশ স্বতন্ত্র কোটা বাস্তবায়ন, শ্রুতি লেখক মনোনয়নে স্বাধীনতা নিশ্চিত করে নীতিমালা হালনাগাদ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত পদে নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের বয়সসীমা ৩৫ বছরে উন্নীত করা; সাধারণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩৫ থেকে ৩৭ করার দাবি জানানো হয়।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পদযাত্রা শুরু করার সময় শাহবাগ মোড়ে পুলিশ তাদের আটক করে। ধস্তাধস্তি চলার সময় কেউ কেউ রাস্তায় শুয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে জাদুঘরের সামনে অবস্থান করতে বাধ্য করে।
চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিবন্ধী গ্রাজুয়েট পরিষদের সদস্য সচিব আলিফ হোসেন বলেন, চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিবন্ধীদের চাকরির সুযোগ কম থাকায় গ্রাজুয়েট হয়েও অনেকে বেকার। সরকারের উচিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। এই দাবি নিয়ে গত রোববারও শাহবাগে অবস্থান ও পদযাত্রা করি। কিন্তু পুলিশ আমাদের আটকে দেয়। সমাজকল্যাণ উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেও কোনো সমাধান পাইনি। তাই আবারও পদযাত্রা করি, কিন্তু পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রাখে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর বলেন, চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিবন্ধীরা দাবি-দাওয়া নিয়ে সড়কে এসে শুয়ে পড়ায় পুলিশ তাদের সরিয়েছে। আমাদের কাজ ছিল সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখা।