খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ মে ২০২৫
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে সামুদ্রিক ঝিনুক দিয়ে সাজানো ‘৮৬৪৭’ সংখ্যার একটি ছবি পোস্ট করেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কমি। তাতেই বিপাকে পড়েছেন তিনি। এই ছবিই এখন তার বিরুদ্ধে তদন্তের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, সাবেক এফবিআই প্রধানের পোস্ট করা ওই সংখ্যাগুলোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। অভিযোগ উঠেছে, ছবিতে থাকা সংখ্যাগুলো কেবল সাধারণ সংখ্যা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর বার্তা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক এবং রিপাবলিকানদের দাবি, ছবিটির মাধ্যমে ট্রাম্পকে হুমকি ও সহিংসতার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
কমির পোস্টে দেখা যায়, সৈকতের বালিতে হলুদ-কালো রঙের ঝিনুক দিয়ে ‘৮৬ ৪৭’ সংখ্যা সাজানো। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “সমুদ্রসৈকতে হাঁটার সময় পাওয়া ঝিনুকের দারুণ এক বিন্যাস।”
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, মেরিয়াম-ওয়েবস্টার ডিকশনারির ভাষ্যমতে, ‘৮৬’ একটি ইংরেজি স্ল্যাং যেটির মানে কাউকে ‘ছুড়ে ফেলা’, ‘সরিয়ে দেওয়া’ বা ‘বর্জন করা’। এটি মদ্যপ কাউকে বার থেকে বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ‘৮৬’ শব্দটি ‘খুন’ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে ‘৪৭’ সংখ্যাটিকে ট্রাম্পের সাংকেতিক প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট। এ কারণে ট্রাম্পের সমর্থকদের দাবি, এই সংখ্যার মাধ্যমে তাকে হত্যা করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
পোস্টটি ঘিরে সমালোচনা শুরু হলে কমি তা মুছে ফেলেন। পরবর্তী এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি ভেবেছিলাম এটি নিছক একটি ছবি হতে পারে। বুঝতে পারিনি কেউ এটিকে সহিংসতা হিসেবে ব্যাখ্যা করবে। আমি সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে। তাই পোস্টটি সরিয়ে দিয়েছি।”
এদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “একজন শিশুও বুঝতে পারবে এর অর্থ কী। এটা খুব স্পষ্ট যে এটি হত্যার ইঙ্গিত।”
সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে বলেন, “আমরা আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থার বিরুদ্ধে যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি গভীরভাবে তদন্ত করি। সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কমির পোস্ট আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।”
এ প্রসঙ্গে বর্তমান এফবিআই কর্মকর্তা কাশ প্যাটেল জানান, “সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রক্ষা করছি। যদিও মূল তদন্তের দায়িত্ব তাদের, তবে প্রয়োজনে এফবিআই সহযোগিতা করবে।”