খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ মে ২০২৫
২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস ১২ দিনে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ৫৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা।
আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৮ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সরকারের ঋণের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের ১২ মে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকায়। গত তিন মাসেই ঋণের এই প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
তবে চলতি অর্থবছরে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ নেয়নি। বরং আগের নেওয়া ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিশোধ করেছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে সরকারের নিট ব্যাংকঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ১১৬ কোটি টাকা।
কেন বাড়ছে ঋণ
রাজস্ব আদায়ে ধীর গতি, বৈদেশিক ঋণ সহায়তা না আসা এবং সঞ্চয়পত্রে বিক্রির তুলনায় ভাঙানোর হার বেড়ে যাওয়াকে ব্যাংকঋণ বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া বেসরকারি খাত উচ্চ সুদের কারণে ঋণ নিতে আগ্রহী নয়, ফলে সরকার তুলনামূলকভাবে সহজেই ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে পারছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ বন্ধ রাখায় বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকেই বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। বেসরকারি খাতে চাহিদা কম থাকায় সরকার সহজেই এই অর্থ সংগ্রহ করতে পারছে।”
আগামী অর্থবছরে ঋণ কমানোর উদ্যোগ
আগামী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ব্যাংকঋণ কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। নতুন অর্থবছরের জন্য ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা (১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) থেকে প্রায় ২৫ শতাংশ কম।
সাবেক গভর্নর ও অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “টাকা ছাপিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন সঠিক পথ নয়। বাস্তবতা বিবেচনায় বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট তৈরি করতে হবে।”
চাপ বাড়ছে সরকারের ওপর
বর্তমানে সরকার ব্যয় সংকোচনের নীতি অনুসরণ করলেও বেতন-ভাতা, ঋণের সুদ এবং অন্যান্য অনিবার্য ব্যয়ের কারণে ঋণের চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর এই চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
২০২৩–২৪ অর্থবছর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ নিত সরকার, যা মুদ্রাস্ফীতির জন্য দায়ী ছিল বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন। সমালোচনার প্রেক্ষিতে এখন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে।