খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ মে ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি, মিসৌরি ও ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে শক্তিশালী টর্নেডো ও ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। শনিবার (১৭ মে) ভোরে কেন্টাকি রাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বের লরেল কাউন্টিতে টর্নেডো আঘাত হানে।মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এনবিসি নিউজ জানায়, কেন্টাকিতে সবচেয়ে বেশি ১৮ জন, মিসৌরিতে ৭ জন এবং ভার্জিনিয়ায় ২ জন নিহত হয়েছেন।
কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশেয়ার জানান, অঙ্গরাজ্যটির দক্ষিণ-পূর্বের লরেল কাউন্টিতে শনিবার ভোরে টর্নেডো আঘাত হানে, যেখানে ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
মিসৌরির সেন্ট লুইস শহরে পাঁচজনসহ মোট সাতজন নিহত হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
মিসৌরিতে টর্নেডোর আঘাতে প্রায় ৫ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় ছাদ উড়ে গেছে, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে।
শনিবার (১৭ মে) বিকেল পর্যন্ত কেন্টাকি ও মিসৌরিতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল।
সেন্ট লুইস শহরের মেয়র কারা স্পেন্সার জানিয়েছেন, শহরে অন্তত ৩৮ জন আহত হয়েছেন। তারা মূলত ধসে পড়া ভবন ও উপড়ে যাওয়া গাছের নিচে চাপা পড়ে আহত হয়েছেন।
সেন্টেনিয়াল খ্রিষ্টান গির্জার একটি অংশ ধসে পড়লে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়, এদের মধ্যে একজন মারা যান।
স্থানীয় দমকল বাহিনী জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঘরে ঘরে তল্লাশি চলছে।
কেন্টাকির লরেল কাউন্টির পুলিশ কর্মকর্তা জন রুট জানান, এখনও জীবিতদের খোঁজ চলছে এবং আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুই এলাকায় কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এই কারফিউ কার্যকর থাকবে।
মেয়র স্পেন্সার বলেন, ‘এই প্রাণহানি ও ধ্বংস সত্যিই ভয়াবহ। এখন আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে জীবন বাঁচানো, মানুষকে নিরাপদ রাখা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো।’
জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর (এনডাব্লিউএস) জানিয়েছে, টর্নেডোর সূত্রপাত মিসৌরির সেন্ট লুইস শহরের পশ্চিমে ফরেস্ট পার্কের কাছে। এ এলাকায় রয়েছে ঐতিহাসিক সেন্ট লুইস চিড়িয়াখানা ও ১৯০৪ সালের অলিম্পিক ভেন্যু।
আবহাওয়া দপ্তর আরও জানায়, এই টর্নেডোর প্রভাব পূর্ব দিকে আটলান্টিক উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। পার্শ্ববর্তী ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেও টর্নেডো আঘাত হেনেছে।
আগামী সপ্তাহান্তে (সাপ্তাহিক ছুটিতে) উত্তর টেক্সাসে আরও কয়েকটি টর্নেডোর আশঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ।
উল্লেখ্য, এসব টর্নেডো যুক্তরাষ্ট্রের ‘টর্নেডো অ্যালি’ নামে পরিচিত এলাকায় আঘাত হেনেছে, যেখানে মে ও জুন মাসে সবচেয়ে বেশি টর্নেডো হয়ে থাকে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে প্রতি মে মাসে কেন্টাকিতে গড়ে ৫টি এবং মিসৌরিতে গড়ে ১৬টি টর্নেডো দেখা যায়।
সূত্র: বিবিসি, এবিসি
খবরওয়ালা/আরডি