খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
দায়িত্বে অবহেলা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বিভাগীয় মামলা ছাড়াই সরকারি কর্মচারীদের যেকোনো সময় চাকরিচ্যুত করতে পারবে সরকার। সর্বোচ্চ ২৫ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করে এই পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। জনপ্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করে এমন বিধান যুক্ত করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সরকারি চাকরি আইন সংশোধনে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি খসড়া করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে খবর প্রকাশের পর আলোচনা-সমালোচনা হয়। পরে সরকারের চারজন উপদেষ্টার নির্দেশনায় নতুন খসড়া চূড়ান্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
চূড়ান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে নোটিশ দেওয়া হবে। নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে তার জবাব দিতে হবে। নোটিশের জবাব পাওয়ার দিন থেকে ২০-২৫ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় মামলার প্রয়োজন হবে না। কেউ সাত কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব না দিলে ওই কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতেই অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হবে।
শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসদাচরণ ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে এখনো সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। তবে বর্তমান আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দিয়ে এসব অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে অনেক সময় দুই বছরের বেশি সময় লেগে যায়। অভিযোগ নিষ্পত্তির পর রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল ছাড়াও প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সুযোগ পান সরকারি কর্মচারীরা।
নতুন আইন কার্যকর হলে বিভাগীয় মামলা ছাড়াই যাঁদের চাকরিকাল ২৫ বছরের কম, তাঁদেরও সহজে চাকরিচ্যুত করা যাবে। এ ক্ষেত্রে তাঁরা অবসর সুবিধা পাবেন কি না, সে বিষয়ে খসড়ায় কিছু বলা হয়নি।
সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করে ২০১৮ সালে বাতিল হওয়া সরকারি কর্মচারী (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ১৯৭৯-এর কিছু ধারা যুক্ত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর ওই অধ্যাদেশের চারটি ধারা যোগ করে খসড়া করা হয়।
সূত্র জানায়, খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সঙ্গে গত শুক্রবার বৈঠক করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ ও জনপ্রশাসনসচিব মো. মোখলেস উর রহমান। ওই সভায় এই চার উপদেষ্টা সরকারি চাকরি আইনে কী কী সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে, সেসব বিষয়ে অবহিত হন। কিছু কিছু বিষয়ে তাঁরা লিখিত মতামত দেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চারজন উপদেষ্টার মতামতের আলোকে নতুন করে খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে। এখন এটি পাসের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তোলা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খানবলেন, সরকারি কর্মচারী (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ ছিল একটি কালাকানুন। ওই ধরনের কোনো আইন এখন করলে সেটিও কালাকানুন হবে। এই সরকারের প্রধান একটি অঙ্গীকার ছিল সব জঙ্গি আইন ও কালাকানুন বাতিল করবে। বিশেষ ক্ষমতা আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হয়নি। তারা এখন আরেকটা কালাকানুন করার পথে হাঁটছে, যেটা সংবিধানবিরোধী।
খবরওয়ালা/এমএজেড