খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, গণতন্ত্রের সংকট এবং ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক নূরুল কবির। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে তিনি বলেন, ‘ছোট্ট একটি এনজিও চালিয়ে, কিংবা ব্যাংকের কর্মকর্তা বা মন্ত্রণালয়ের সচিব হয়ে রাষ্ট্র বোঝা যায় না।’
নূরুল কবির মনে করেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার সম্ভব নয় যদি না রাষ্ট্রচিন্তা, রাজনীতি এবং গণতন্ত্র নিয়ে গভীর ধারণা ও দর্শন থাকে। তিনি বলেন, ‘যারা আগে সংস্কারপন্থিদের গালি দিত, আজ তারাই যখন সংস্কারের কথা বলে, বুঝতে হবে এটা মনের পরিবর্তন নয়—সমাজের চাপে তৈরি হওয়া কৌশল মাত্র।’
তিনি বিএনপির ২৭ ও ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের দিকেও ইঙ্গিত করে প্রশ্ন তোলেন, ‘বহু নেতাকে সংস্কারপন্থি বলে পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এখন হঠাৎ তারাই সংস্কারপন্থি হয়ে গেল?’
বর্তমান সরকারের দিকেও তিনি সমালোচনার তীর ছুড়েন। বলেন, ‘এই সরকার গণতন্ত্র বা রাষ্ট্রব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে—তা বোঝে না। তাদের কোনো সংস্কার দর্শন নেই, রাষ্ট্রদর্শন নেই। তারা শুধু ছাত্রদের সঙ্গে বৈঠক করে আর দাবি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করছে।’
নূরুল কবির আরও বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কোনো সরকার গণতান্ত্রিক হতে পারে না। একটি নির্বাচনের অনুপস্থিতিতে সেই ম্যান্ডেট প্রতিফলিত হয় রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে। অথচ সরকার তাদের এড়িয়ে চলে, চাপ ছাড়া কারো সঙ্গে আলোচনায় বসে না।’
গণতান্ত্রিক সংস্কারের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নেতৃত্বের মাধ্যমে তা সম্ভব নয়। তবে বড় গণআন্দোলন কিংবা অভ্যন্তরীণ চাপ তৈরি হলে কিছু সংস্কার ঘটতে পারে।
তিনি মনে করেন, ‘বর্তমান সরকার একটি বড় সুযোগ পেয়েছিল গণতন্ত্র চর্চার, কিন্তু সেটি প্রায় হারিয়ে ফেলেছে। কারণ, যারা ক্ষমতায় আছে তারা রাষ্ট্রচিন্তা ও রাজনীতির মৌলিক দিকগুলো বোঝে না। ছোট একটা এনজিও চালিয়ে, কিংবা ব্যাংকের কর্মকর্তা হয়ে রাষ্ট্র বোঝা যায় না।’
খবরওয়ালা/আরডি