নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনের কারণে সচিবালয়ে প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।
মঙ্গলবার (২৭ মে) সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সচিবালয় রাষ্ট্রের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র। যুদ্ধ কিংবা সংকটকালেও সচিবালয় সচল রাখা আবশ্যক। অথচ সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ সংশোধনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই সচিবালয়ে নেয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয় সোয়াত ও বিজিবি সদস্যসহ বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সচিবালয়ের প্রধান গেটসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ করে সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
ইউট্যাব জানায়, এমনকি সাবেক সচিব ও বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার পর্যন্ত সচিবালয়ে প্রবেশে বাধার মুখে পড়েন। দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে সকালে আসা সাংবাদিকদেরও বাধা দেওয়া হয়, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং দুঃখজনক।
সংগঠনটি মনে করে, সচিবালয়ে যেকোনো নাগরিক প্রয়োজনবশত প্রবেশ করতে পারেন—এটাই স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক চর্চা। এ ধরনের বাধা নাগরিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পরিপন্থী।
বিবৃতিতে ইউট্যাব নেতারা আরও বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র দেখতে পাব। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কতটা গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হচ্ছে—সে প্রশ্ন থেকেই যায়।”
তারা সব মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন। তা না হলে চলমান অচলাবস্থা আরও ঘনীভূত হলে দেশ ও জাতির ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”
সংগঠনটি আন্দোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে অবিলম্বে পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে।
খবরওয়ালা/ এমএজেড