খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা ঘিরে ক্রিকেট অঙ্গনে এখন তুমুল গুঞ্জন চলছে।
আলোচনা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে বিসিবি সভাপতি পদ নিয়ে। গুঞ্জন রয়েছে, দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল হতে পারেন বিসিবির পরবর্তী সভাপতি। এরইমধ্যে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন, যার ফলে আলোচনা আরও জোরালো রূপ নিয়েছে।
শুধু তাই নয়, বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদেও পরিবর্তনের আভাস মিলছে। খোদ বিসিবির বর্তমান মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমামকে সিইও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে—এমন গুঞ্জনও রয়েছে। বর্তমান সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
এর মাঝেই চলছে আলোচনা—আগামী অক্টোবর মাসে নির্ধারিত বিসিবি নির্বাচন আদৌ হবে কি না! বরং গুঞ্জন, নির্বাচনের আগেই বর্তমান বোর্ড ভেঙে দিয়ে গঠন করা হতে পারে একটি অন্তর্বর্তীকালীন (অ্যাডহক) কমিটি।
তবে এসব বিষয়ে বিসিবির বর্তমান সভাপতি ফারুক আহমেদ কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন,“বুলবুল সভাপতি হবে বা বোর্ড ভেঙে অ্যাডহক কমিটি হবে—এমন কোনো কিছুই আমি জানি না। এমনকি সিইও পরিবর্তনের বিষয়ও না। আমি কাজ করে যাচ্ছি, এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।”
উল্লেখ্য, গত বছর ২১ আগস্ট বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের সরকার পরিবর্তনের পর দীর্ঘ ১২ বছর বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব পালন করা নাজমুল হাসান পাপন দেশ ছাড়েন। একইসঙ্গে বোর্ড ছেড়ে দেন তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পরিচালকও। এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোটায় পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান ফারুক আহমেদ। পরে পরিচালকদের ভোটে তিনি বিসিবি’র সভাপতি নির্বাচিত হন।
তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ ছিল, তিনি বিসিবির ১২০ কোটি টাকার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট) তুলে ফেলেছেন। তবে পরে বিসিবি থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১২০ নয়, ২৩৮ কোটি টাকার এফডিআর ‘দুর্বল ব্যাংক’ থেকে তুলে নিরাপদ ঘোষিত ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে, যাতে বোর্ডের লভ্যাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি নতুন ব্যাংকগুলোর অনেকে বিসিবির ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সিরিজের স্পন্সর হিসেবেও যুক্ত রয়েছে।
সব মিলিয়ে বিসিবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অস্থির ও গুঞ্জনময় পরিবেশ। এর মধ্যেই আগামী শনিবার (১ জুন) বিসিবির জরুরি কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জানা গেছে, সভায় গঠনতন্ত্র সংশোধনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে। তবে অপ্রকাশিত সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ওই সভাতেই বোর্ড ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আবার নতুন করে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন কয়েকজন নতুন পরিচালকও।
তবে বিসিবির একজন সিনিয়র ও প্রভাবশালী পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমিও এসব কথা শুনছি। কিন্তু আমরা বোর্ডে থেকেও কিছু জানি না কেন বুঝতে পারছি না। বোর্ড ভাঙার এখতিয়ার একমাত্র জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। এখন পর্যন্ত সেখান থেকে কোনো নির্দেশ বা চিঠি আসেনি। আমার মতে, গুজবই বেশি ছড়াচ্ছে।”
এরই মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—ফারুক আহমেদ টিকে থাকবেন নাকি নতুন কোনো চমক আসছে? সম্ভাব্য বিকল্পদের তালিকায় নাম এসেছে সদ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া তামিম ইকবালেরও। তবে বিসিবির এক সাবেক পরিচালকের মতে,“তামিমের জন্য সমীকরণ সহজ নয়। তাকে প্রথমে পরিচালক হয়ে আসতে হবে। সেটা ক্লাব বা বিভাগ থেকে এখন সম্ভব নয়। একমাত্র জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকেই মনোনীত পরিচালক হয়ে আসার সুযোগ রয়েছে।”
সব মিলিয়ে বিসিবির সভাপতি, সিইও এবং পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে শুরু হওয়া এই আলোচনায় বাংলাদেশ ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা। সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে—তা জানার জন্য এখন তাকিয়ে পুরো দেশ।