খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
রাজধানীর চাঁনখারপুলে গত জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার পলাতক আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদেশে বলা হয়েছে, একদিন পর (বুধবার, ৪ জুন) একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে পলাতক চার আসামিকে আদালতে হাজির হতে বলা হবে।
চার পলাতক আসামি হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
এদিন মামলার অপর চার আসামি—ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেন, কনস্টেবল সুজন মিয়া, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় চাঁনখারপুলে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, তদন্তে পাওয়া গেছে অভিযুক্তদের কেউ ঘটনাস্থলে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন, কেউ তত্ত্বাবধান করেছেন। তারা অধীনস্থদের নির্দেশ দিয়ে, সহায়তা ও সহযোগিতা করে কিংবা নীরব থেকে হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন। তাদের কেউ পরবর্তীতে দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।
তদন্ত প্রতিবেদনে রয়েছে ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, ১৯টি ভিডিও, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, ২টি অডিও, ১১টি বই ও প্রতিবেদন ও ৬টি মৃত্যু সনদ।
এর আগে ২৫ মে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেয়। এ মামলাই পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলার বিচার প্রক্রিয়া হিসেবে শুরু হলো।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ফরমাল চার্জ আমলে নেওয়ার মাধ্যমে এ মামলার বিচারিক যাত্রা শুরু হলো। আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’
খবরওয়ালা/আরডি