খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫
মুম্বাইয়ের বাসিন্দা নম্রতা নানগিয়া এবং তাঁর স্বামী একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি ও একটি টায়ার কোম্পানিতে কাজ করেন। তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও ক্রমবর্ধমান ব্যয়ভার তাঁদের এই ভাবনা থেকে বিরত রাখছে। নম্রতার মতে, সন্তানের স্কুলের ফি, স্কুল বাসের খরচ, এমনকি সাঁতারের ক্লাসের উচ্চ ব্যয় বহন করা তাঁদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।
নম্রতা জানান, তাঁর শৈশবে এত বাড়তি খরচ ছিল না। তিনি বলেন, “আমরা শুধু স্কুলেই যেতাম, সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম বলে কিছু ছিল না। কিন্তু এখন সন্তানকে সাঁতার এবং ছবি আঁকার ক্লাসে পাঠাতে হয়। খেয়াল রাখতে হয়, তারা আর কী কী করতে পারে।”
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে নম্রতার এই অভিজ্ঞতাকে একটি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রবণতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং উপযুক্ত সঙ্গীর অভাবে তাদের কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক সন্তান নিতে পারছেন না।
ইউএনএফপিএ ১৪টি দেশের ১৪ হাজার মানুষের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। এতে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন বলেছেন যে তাদের কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক সন্তান হয়নি বা তারা সন্তান ধারণের আশাও করেননি। জরিপটি থাইল্যান্ড, হাঙ্গেরি, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, জার্মানি, সুইডেন, ব্রাজিল, মেক্সিকো, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো নিম্ন, মধ্য ও উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রজনন সীমা পেরিয়ে যাওয়া মানুষের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। এই দেশগুলো বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ ধারণ করে।
ইউএনএফপিএর প্রধান নাতালিয়া কানেম বলেছেন, “বিশ্বজুড়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার হার নজিরবিহীনভাবে কমে গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মানুষ দুই বা ততোধিক সন্তান চান, কিন্তু তারা কাঙ্ক্ষিত পরিবার গড়তে পারছেন না। এটাই প্রকৃত সংকট।”
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৯ শতাংশ মানুষ আর্থিক সীমাবদ্ধতাকে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক সন্তান না নিতে পারার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় এই হার সর্বোচ্চ (৫৮ শতাংশ) এবং সুইডেনে সর্বনিম্ন (১৯ শতাংশ)।
অন্যদিকে, ১২ শতাংশ মানুষ সন্তান লাভে অক্ষমতাকে দায়ী করেছেন। থাইল্যান্ডে ১৯ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৫ শতাংশ, নাইজেরিয়ায় ১৪ শতাংশ এবং ভারতে ১৩ শতাংশ মানুষ এই কারণটি উল্লেখ করেছেন।
ইউএনএফপিএ আরও জানিয়েছে যে, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার চেয়েও বড় বাধা হলো সময়ের অপর্যাপ্ততা। মুম্বাইয়ের নম্রতার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। প্রতিদিন তিন ঘণ্টা অফিসে যাতায়াতে কেটে যায় তাঁর। বাড়ি ফিরে তিনি এতটাই ক্লান্ত থাকেন যে মেয়ের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো শক্তি পান না। তিনি ও তাঁর স্বামী ঘুমানোর জন্য খুব কমই সময় পান। নম্রতা বলেন, “একটি কর্মব্যস্ত দিনের শেষে, মা হিসেবে আপনার মনে একটি অপরাধবোধ কাজ করে যে আপনি আপনার সন্তানের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে পারছেন না। তাই একটি সন্তানের ওপর পূর্ণ মনোযোগ দিতে চাই।”
খবরওয়ালা/এন