খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫
কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ভয়ভীতি দেখাতে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে একটি স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ।
এতে পথচারী শিশু-কিশোরসহ অন্তত সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ জুন) জুমার নামাজের পরপরই এ হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলার নেতৃত্ব দেন ওই সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রধান ওসামা বিন হোসাইন। তিনি সহযোগীদের নিয়ে মসজিদের সামনেই গুলি চালাতে শুরু করেন।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন: শামসু উদ্দিন (৩৫), মো. ইব্রাহিম (১৬), তামান্না (১৩), নুর কামাল (৯) প্রতিবন্ধী শিশু, মাথায় গুলিবিদ্ধ, সোহেল (৩০), ফয়েজ উদ্দিন (১৮), মো. শফিক (৫০)
আহত শামসু উদ্দিন বলেন, “জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলাম, তখনই ওসামা গুলি চালায়। কেন গুলি করল বুঝতে পারিনি।”
আহত ফয়েজ উদ্দিনের মা আকতার বলেন, “আমার ছেলেকে গুলি আর ছুরি মেরে আহত করেছে ওসামা ও তার লোকজন। আমি এদের বিচার চাই।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওসামা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আজকের হামলাটি ছিল একেবারে প্রকাশ্য ও পরিকল্পিত। গুলিবিদ্ধদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, “গুলিবিদ্ধ কয়েকজনকে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি।”
এ বিষয়ে জানতে ওসামা বিন হোসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গুলিবর্ষণের ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, “পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”