খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
ইরানে ইসরায়েলের অপারেশন ‘রাইজিং লায়ন’-এর সফলতায় বিশ্ব ভড়কে গেছে। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) গভীর রাতে শুরু হওয়া সেই হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক নেতা ও পরমাণু বিজ্ঞানীরা নিহত হন। গুপ্তচর নেটওয়ার্ক এবং উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করেই এত সুনির্দিষ্ট হামলা চালায় ইসরায়েল। এসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটির সারসংক্ষেপ প্রকাশ করে জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজ। তাতে বলা হয়, হামলার প্রস্তুতি, হামলা সংঘটন এবং নেতাদের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়াসহ সব সামরিক কাজে ইসরায়েল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তা নেয়।
বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে শুরু হওয়া ওই অতর্কিত হামলায় ইরানের অভ্যন্তরে অবস্থিত সামরিক স্থাপনা এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন হামলা করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন জেনারেল এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হন। ইরানের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাময়িকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ে।
হামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। লক্ষ্য নির্বাচনে জড়িত একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েল তথ্য বিশ্লেষণ, যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত করা এবং ইরানি নেতাদের গতিবিধি ট্র্যাক করতে এআই ব্যবহার করেছে।
গত অক্টোবরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়ার পর পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়। মোসাদ কর্মকর্তারা ইরানের সিনিয়র সামরিক ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরি করেন। তাদের কর্মস্থল, দৈনন্দিন রুটিন এবং এমনকি অবসর কার্যকলাপও সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এআই সিস্টেমের পাশাপাশি মাঠে থাকা গুপ্তচররা ইরানি পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং বিপ্লবী গার্ডের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নজরদারি করে নিখুঁত লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে।
খবরওয়ালা/এমএজেড