খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) বন্ধ ঘোষণা করে হল ত্যাগের নির্দেশ দিলেও তা মানবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন চলবে এবং তারা হলে থেকেই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
শনিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ এবং হল ছাড়ার নির্দেশ অযৌক্তিক ও বেআইনি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী তৌহিদুল আবেদীন তানভীর বলেন, ‘পরিত্যক্ত ভবনে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা ক্লাস করছিলাম। নিরাপদ বিকল্প না দিয়ে প্রশাসন আমাদের হল থেকে বের করে দিতে চাচ্ছে। এটা আন্দোলন দমনের চেষ্টা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাব। যৌক্তিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।’
এর আগে সকালে পাঁচ দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে অবস্থান, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। বিকেলে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে আগামীকাল (২২ জুন) দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে পেশাগত পরীক্ষার্থী এবং বিদেশি শিক্ষার্থীরা এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবেন।
এ ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা দুশ্চিন্তায় পড়েন—এত দ্রুত কোথায় যাবেন বা কীভাবে নিরাপদে থাকবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘হঠাৎ করে হল বন্ধ ঘোষণা মানে আমাদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা উভয়কে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া।’
শিক্ষার্থীরা জানায়, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং হল ত্যাগ করবেন না।
ঢামেক শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি:
১. দ্রুত নতুন ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসের বাজেট পাস
২. নতুন ভবন চালু না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা
৩. নতুন একাডেমিক ভবনের বাজেট অনুমোদন
৪. পৃথক বাজেট ও দ্রুত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা
৫. কার্যক্রমে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা
শিক্ষার্থীরা বলছেন, শুধু আবাসন নয়, নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে না।
খবরওয়ালা/আরডি