খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনায় বিভিন্ন অধিদপ্তর কাজ করে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, মানোন্নয়ন, মূল্যায়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকিসহ বেশিরভাগ কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু গত এক বছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে চারবার পরিবর্তন হয়েছে। অন্যান্য শিক্ষা অধিদপ্তরেও অনুরূপ পরিস্থিতি দেখা যায়। শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বারবার এই পরিবর্তনের কারণে নীতি গ্রহণ ও কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এসএম হাফিজুর রহমান বলেন, “অধিদপ্তরগুলো নীতিপ্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা রাখে। মহাপরিচালক কতটা কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত বদলালে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়া ও বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় দেখা যায়, নতুন মহাপরিচালক আগের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় কাজ করতে পারেন না।”
তিনি আরও বলেন, “দক্ষ ও আন্তরিক মহাপরিচালকরা সংক্ষিপ্ত সময়ে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে না পারায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিঘ্ন ঘটে।” পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৯ থেকে এ পর্যন্ত সাতজন মহাপরিচালক দায়িত্ব নিয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশের কার্যকাল এক বছরের কম। গত এক বছরে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (অতিরিক্ত দায়িত্ব), মো. আব্দুস সামাদ, ড. মো. আব্দুল হাকিম এবং আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এই পদে ছিলেন। মো. আব্দুস সামাদ তিন মাস এবং ড. মো. আব্দুল হাকিম পাঁচ মাস দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অধিকাংশ মহাপরিচালক চাকরির শেষ পর্যায়ে নিযুক্ত হওয়ায় অবসরের কারণে কার্যকাল স্বল্প হয়। এছাড়া নতুন মহাপরিচালকের কাজের ধরন পূর্বের থেকে ভিন্ন হওয়ায় অভ্যন্তরীণ জটিলতা দেখা দেয়। তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য মহাপরিচালক নিয়োগ দিলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ হতো।”
প্রাথমিক শিক্ষার মতোই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরেও গত সাত বছরে নয়বার মহাপরিচালক পরিবর্তন হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরেও সাম্প্রতিক এক বছরে দুইবার করে মহাপরিচালক বদলানো হয়েছে। বিশেষ করে মাউশিতে শিক্ষক-কর্মচারী আন্দোলনের কারণে নতুন নিয়োগকৃত মহাপরিচালক প্রত্যাহার ও পরিবর্তন হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক বলেন, “নিয়োগে স্থায়িত্ব না থাকায় স্বাধীনভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। টেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মকর্তাদের দাবি মেনে চলতে হয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চিন্তা করতে হয়।”
শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মহাপরিচালকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে আধিপত্য গড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। পাশাপাশি মাউশিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের শীর্ষ পর্যায়ে আসার সুযোগ থাকলেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও অন্যান্য অধিদপ্তরে তা নেই। সরকারের উচিত এ বিষয়টি পর্যালোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
এই বিষয়ে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “বর্তমান পরিবর্তনের সময়ে বারবার বদল হলে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কাজ করার জন্য যথেষ্ট সময় দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষায় ক্যাডার সার্ভিস না থাকা একটি বড় সমস্যা। অধিকাংশ দায়িত্বশীলের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা না থাকায় পরিকল্পনায় ঘাটতি দেখা দেয়। মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মকর্তাদের শীর্ষ পর্যায়ে আসার জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত।”
খবরওয়ালা/এমএজেড