খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
লক্ষ্মীপুরে জামায়াত কর্মী পরিচয়ে মামলা দিয়ে ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মেহেদী হাসান তুষার নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। যদিও জামায়াত বলছে, তুষার তাদের সংগঠনের কেউ নন। এ নিয়ে শহরজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তুষার লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং বাহার ভেন্ডারের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদা দাবি, মামলার হুমকি এবং জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি জেলা কৃষক লীগের এক নেতা শরীফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তুষার নিজেকে শিবিরের সাবেক নেতা ও ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তাঁর ভাষায়, “তুষার বিভিন্ন সময় আমাকে মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছে। পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়েছে। এমনকি লক্ষ্মীপুর বাজারের অনেক ব্যবসায়ীকেই সে হয়রানি করছে।”
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পর শরীফুল ইসলাম নিজেই তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করেন। পরদিন তিনি বলেন, “তুষারের সঙ্গে একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। সেই কারণে সাংবাদিকদের কাছে ভুলভাবে কথা বলেছি।”
অন্যদিকে, তুষারের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ আনেন আবুল হোসেন নামের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি জানান, “তুষার কয়েকজন সহযোগীসহ আমাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। নদীর পাড়ে চার ঘণ্টা আটকে রেখে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা আদায় করে। পরে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।”
এ ঘটনায় আবুল হোসেনের স্ত্রী স্কুলশিক্ষিকা হাসিনা আক্তার বাদী হয়ে তুষারের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং তুষারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি সন্দেহজনক এজাহার খসড়া বিভিন্ন মানুষের হোয়াটসঅ্যাপে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শহরজুড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এটি মূলত চাঁদাবাজির একটি কৌশল। তাঁদের ভাষায়, “তুষার বিভিন্ন ব্যক্তিকে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে ওই এজাহারে নাম ঢুকিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।”
এছাড়া তুষার ও তাঁর বাবা বাহার ভেন্ডারের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে। সৌদি প্রবাসী ওমর ফারুকের ছেলে আহমেদ ফাহাদ বলেন, “আমাদের ৩০ বছর ধরে ভোগদখল করা দোকান জোরপূর্বক দখল করে নেয় তুষার ও তার বাবা। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আইনি পদক্ষেপ নিতে পারিনি। তুষার আমাদের হুমকি-ধমকিও দিয়েছে। থানায় গিয়েও কোনো ফল পাইনি।”
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তুষার বলেন, “আমি জামায়াত কর্মী কি না—তা সময়ই বলে দেবে। তবে যে এজাহারের কথা বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এসব একটি মহলের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার।”
তবে লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান বলেন, “তুষার আমাদের কোনো কমিটিতে নেই, তিনি জামায়াতের কর্মীও নন। যদি সে জামায়াতের নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কিছু করে থাকে, প্রশাসনের উচিত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল হক বলেন, “যে এজাহারটি ছড়ানো হচ্ছে তা ভুয়া। চাঁদাবাজির বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
খবরওয়ালা/এমএজেড