খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
বরগুনার তালতলী উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে তালতলী উপজেলা শহরের সদর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- সিদ্দিকুর রহমান (৩০), শাকিল (২৭), রবিউল মুসুল্লি (২৬), মহসিন খান (২৭), মানু (৪৫), আলাউদ্দিন (৪৫), কবির (৩৫), রহিম (৪০), রুবেল (৩৪), সাহাবিদ খান (৪২), আ. হাই (৫০), সাইদুল (৩৫), নুর মোহাম্মদ (৪৫), মিজান (২৫)। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় ৪ জনকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩০ জুন) উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শহিদুল হকের বিরুদ্ধে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি কর্মী ও ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও তালতলী বাজার বহুমুখী সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহবুবুল আলম মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়া শামিম হাসান, মংসেলন তালুকদার, যুবদলের সদস্য সচিব রিয়াজুল ইসলাম, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, কৃষক দলের জেলা সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি জাফর প্রমুখ।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকালে আহ্বায়ক মো. শহিদুল হকের সমর্থকরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। একই সময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন ও যুবদলের সদস্য সচিব মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ নেতৃত্বে একই স্থানে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও নৌ-বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতরা সবাই তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। গুরুতর অবস্থায় ৪ জনকে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও তালতলী বাজার বহুমুখী সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘শহিদুল হক ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি ও একজন ব্যবসায়ীকে মারধর করেন। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যবসায়ীদের পক্ষে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এ কর্মসূচি চলাকালীন হামলা করা হয়। এতে ব্যবসায়ী ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা আহত হন।’
তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শহিদুল হক বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর প্রতিবাদে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মানববন্ধন চলছিল। এ সময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম ও যুবদলের সদস্যসচিব মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজের নেতৃত্বে আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আহত আমার চারজন সমর্থককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয়েছে।’
তালতলী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন গুরুতর আহত থাকায় বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা বলেন, ‘বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সহায়তায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরের দোকানপাট দুই ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।’
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, ‘বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি।’
খবরওয়ালা/এসআর