খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ ‘মেন্টাল হেলথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ২৪তম বার্ষিক আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্য সম্মেলনে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ব্যাংককের আইকনসিয়ামে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে থাইল্যান্ডের পাবলিক হেলথ মন্ত্রণালয়ের মেন্টাল হেলথ বিভাগ, জিত্তাভেজসার্ত সংক্রাও ফাউন্ডেশন এবং সোমদেত চাওপ্রয়া মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট।
পুরস্কার প্রদানের সময় আয়োজকরা বলেন, “সায়মা ওয়াজেদের অনন্য নেতৃত্ব, মানবাধিকারের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার, সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের প্রতি তাঁর গভীর সংবেদনশীলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নীতিতে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক অবদানকে সম্মান জানিয়ে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।”
বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য এবং অটিজম বিষয়ে একজন সম্মানিত বিশেষজ্ঞ হিসেবে সায়মা ওয়াজেদ ইতিমধ্যেই সুপরিচিত। প্রায় দুই দশক ধরে এই খাতে তিনি কাজ করে আসছেন—একই সঙ্গে একজন পেশাজীবী, নীতিনির্ধারক এবং সংগঠক হিসেবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মানসিক স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে তাঁর অবদান বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
পুরস্কার গ্রহণ করে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, “আজ থেকে ২০ বছর আগে যখন আমি এই যাত্রা শুরু করি, তখন মানসিক স্বাস্থ্য ছিল প্রায় উপেক্ষিত একটি খাত। আজ এই স্বীকৃতি পেয়ে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই তাঁদের প্রতি, যারা এই পথচলায় আমার সঙ্গে ছিলেন।”
তিনি থাইল্যান্ডের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “এই খাতে থাইল্যান্ডের উদ্যোগ, উদ্ভাবন এবং প্রতিশ্রুতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে লক্ষ্য করেছি।”
সায়মা আরও বলেন, WHO ও থাইল্যান্ড সরকারের অংশীদারিত্ব মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক ও ফলপ্রসূ হয়ে উঠেছে। এই অংশীদারত্বের আওতায় রয়েছে—আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ‘স্টেপ-বাই-স্টেপ’ এবং ‘তর-তুয়েম-জাই’ নামে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, আত্মহত্যা প্রতিরোধে ‘LIVE LIFE’ উদ্যোগ, এবং লেগো ফাউন্ডেশনের সহায়তায় পরিচালিত প্যারেন্টিং ইন্টারভেনশন প্রজেক্ট।
উপসংহারে তিনি বলেন, “WHO-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে আমাদের মেয়াদজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নই থাকবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। থাইল্যান্ডসহ সব অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে আমরা আরও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে চাই।”
খবরওয়ালা/এমএজেড