খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
মালয়েশিয়ার পুলিশ প্রধান সম্প্রতি একটি বড় অভিযানের মাধ্যমে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, যা মূলত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল। এই অভিযানে গত তিন মাসে ৩৬ জন বাংলাদেশিকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ খালিদ ইসমাইল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আটককৃতরা বাংলাদেশ ও সিরিয়ায় আইএস সদস্যদের অর্থায়ন করত। গত ২৭শে জুলাই মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইলও এই আটকের খবর নিশ্চিত করেছিলেন। এপ্রিল থেকে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে এই ৩৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়, যাদের অনেকেই কারখানা, নির্মাণ এবং সেবা খাতে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ প্রধান আরও বলেন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ কাউন্টার টেররিজম ডিভিশনের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই দলটি সিরিয়া ও বাংলাদেশে আইএসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তহবিল সংগ্রহ করত।
মালয়েশিয়ার সংবাদ মাধ্যম দ্য স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গ্রুপটি ‘গেরাকান মিলিটান র্যাডিক্যাল বাংলাদেশ’ বা ‘জিএমআরবি’ নামে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামে সক্রিয় ছিল। পুলিশ প্রধানের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য স্টার জানায়, “তাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একশো থেকে দেড়শো সদস্য রয়েছে বলে আমাদের ধারণা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রত্যেক সদস্যকে সদস্য ফি বাবদ বার্ষিক ৫০০ রিঙ্গিত (প্রায় ১৪ হাজার টাকা) দিতে হতো। যদিও, চাঁদার পরিমাণ সদস্যদের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।”
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, আইএসের এই নেটওয়ার্কটি সদস্য সংগ্রহের জন্য অন্য বাংলাদেশি শ্রমিকদের লক্ষ্য করত। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করত এই কাজে। আটককৃতরা সিরিয়া ও বাংলাদেশে অর্থ পাঠাতে আন্তর্জাতিক ফান্ড ট্রান্সফার সার্ভিস এবং ই-ওয়ালেট ব্যবহার করত। তবে, কী পরিমাণ অর্থ তারা সরবরাহ করেছে, সে বিষয়ে পুলিশ প্রধান বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি।
প্রতিবেশী কোনো দেশ বা অন্য কোথাও আইএস গোষ্ঠীর সাথে তাদের যোগাযোগ ছিল কিনা, এমন প্রশ্নে মোহাম্মদ খালিদ ইসমাইল জানান, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাকি ১৫ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শক। এছাড়া, অপর ১৬ জনের বিরুদ্ধে এখনো তদন্ত চলছে এবং তারা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
মালয়েশিয়ায় ৩৬ জন বাংলাদেশি আটকের খবরে বাংলাদেশেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. মোঃ তৌহিদ হোসেন গত বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলেন। তিনি জানান, ‘সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে’ মালয়েশিয়ায় আটক ৩৬ জন বাংলাদেশি সম্পর্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্তারিত জানতে চাইবে।
ড. হোসেন আরও বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা না গেলেও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আদালতে দায়ের হতে পারে, “আর বেশ কিছুকে তারা বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে।” তিনি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার আশা প্রকাশ করেন।
ড. তৌহিদ হোসেন বলেন, “বেশ কিছুকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিলে স্বাভাবিকভাবে আমাদেরও চেক-আপ করতে হবে আসলে তাদের কতটুকু কি সম্পৃক্ততা আছে, কোন সংগঠনের সাথে, সেটা আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে।”
এমন ঘটনায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশিদের ভিসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে ড. হোসেন বলেন, যে কোনো নেতিবাচক বিষয়ই ভিসা প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে, ফেলবে না আমি এ কথা বলতে পারি না। আমাদের দেখতে হবে যেন আমরা সঠিক পদক্ষেপ নিই, তাহলে সেটা মিনিমাইজ করা যাবে
খবরওয়ালা/টিএস