খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
চার বছর বয়সী মেয়ে রুসফিয়াকে নিয়ে করতোয়া নদীতে গোসল করতে গিয়েছিলেন মাসুম আল মামুন (৪২)।
মেয়েকে নদীর পাশে বাঁধা একটি নৌকায় বসিয়ে রেখে নিজে পানিতে ডুব দেন। কিন্তু অনেকক্ষণ কেটে গেলেও তিনি আর পানির ওপর উঠলেন না। শিশুকন্যা রুসফিয়া তখন দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে মাকে ঘটনাটি জানায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে রোববার (৬ জুলাই) বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার আহমদনগর এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীতে। মাসুম আহমুন পঞ্চগড় পৌর এলাকার আহমদনগরের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে রেখে গেছেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয়দের সহায়তায় বিকেল ৫টার দিকে নদীতে নামেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রায় ৪৫ মিনিট চেষ্টার পর এক স্থানীয় ব্যক্তি পানির নিচে পায়ে কিছু অনুভব করেন। পরে সেখান থেকেই মাসুমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মাসুমের মামাতো ভাই জাফর আহমদ জানান, “আমরা শুনেছি মাসুমের হৃদ্রোগ ছিল। পরিবারের ধারণা, পানিতে ডুব দেওয়ার পরই তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।”
পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, “খবর পেয়ে আমরা বিকেল পাঁচটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি করি। পরে একটি দেহ খুঁজে পেয়ে তা উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি।”
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
এই মৃত্যুর ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। নদীর পাড়ে ছোট্ট মেয়ের চোখের সামনে বাবাকে হারানোর করুণ দৃশ্য সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছে।
খবরওয়ালা/আশ