খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
হাফ প্যান্ট পরা ছবি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, এনসিপির শীর্ষ নেত্রী ডা.তাসনিম জারা। রবিবার সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি কালের কণ্ঠ ও দৈনিক ইত্তেফাকের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন, আজ সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠ ও দৈনিক ইত্তেফাক নামে দুটি পত্রিকা এমন একটি ফটো কার্ড প্রকাশ করেছে, যেখানে আমাকে জনসমক্ষে “হাফ প্যান্ট” পরে দেখা গেছে—এই মর্মে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ছবিটি স্পষ্টতই এআই-সহ প্রযুক্তিগতভাবে বিকৃত ও সাজানো হয়েছে, যাতে বিতর্ক তৈরি করা যায়, লজ্জা দেওয়া যায় এবং আমাকে অপমানিত করা যায়।
কোনো জায়গায় বলা হয়নি যে ছবিটি ভুয়া। শুধু যথেষ্ট ইঙ্গিত রাখা হয়েছে যাতে সন্দেহ ছড়ানো যায়, ফিসফাস শুরু হয় এবং আমার সম্মানহানির চেষ্টা করা যায়।
জারা পোস্টে লিখেন, এই দুই সংবাদমাধ্যম অতীতে আওয়ামী লীগ শাসনামলের অনুগত প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে। এখন তারা আবার সেই পুরনো কৌশলে ফিরছে, কুৎসা রচনার পুরনো একনায়কতান্ত্রিক পাঠ্যবই খুলে বসেছে। সত্য যখন তাদের পক্ষে থাকে না, তখন তারা কল্পিত কেলেঙ্কারি তৈরি করে। যখন তারা কোনো নারীর কাজের সমালোচনা করতে পারে না, তখন তারা তাঁর শরীরকে টার্গেট করে।
তিনি বলেন, এই তথাকথিত সংবাদমাধ্যমগুলো বহু বছর ধরে ক্ষমতার দোসর হয়ে কাজ করেছে। আজও তারা সেই ভূমিকাই পালন করছে, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা’র মুখোশ পরে। এরা সত্য উন্মোচন করছে না, বরং সত্যকে আড়াল করছে—এমনকি ক্ষমতার পতনের পরও।
এই ষড়যন্ত্র শুধু মিথ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর নির্মাণ কৌশল আরও বেশি নিকৃষ্ট:
তারা সরাসরি কিছু বলে না, বরং ইঙ্গিত করে। শিরোনামে লেখা নেই “আসল ছবি”, আবার “ভুয়া” বলেও স্বীকার করেনি। এই অস্পষ্টতা দিয়েই তারা আঘাত হানে।
তারা নির্ভর করে সমাজের নারীবিদ্বেষী মানসিকতার ওপর—যেখানে একজন নারীর পোশাক বা চেহারাকে ব্যবহার করে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।
তারা জানে, একটি রক্ষণশীল সমাজে সামান্য ইঙ্গিতও যথেষ্ট—সমাজের বিচার-সন্ত্রাস জাগিয়ে তুলতে।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, আমি কোনো কাপুরুষের বানানো মিথ্যার বোঝা বহন করব না। আমি পিছু হটব না, কারণ কেউ একটি ছবি বানিয়ে সেটিকে সত্য হিসেবে বিক্রি করতে চায়। আমি এই দেশ ও মানুষের জন্য যেই গুরুত্বপূর্ণ কাজের পথে আছি, সেই পথ থেকে সরে দাঁড়াব না।
তাই যাঁরা এই লেখাটি পড়ছেন, তাঁদের বলছি: মনে রাখবেন, একটি পরাজিত ফ্যাসিস্ট শাসনের অবশেষ কীভাবে ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে সম্মানহানির চেষ্টা করেছিল। মনে রাখবেন, কোন কোন পত্রিকা তা যাচাই না করেই ছড়িয়ে দিয়েছে। এবং মনে রাখবেন, বিষয়টি শুধু আমাকে ঘিরে নয়—এটি সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি ঘিরে, যা আমরা পিছনে ফেলে আসতে চাই এবং সেই নতুন রাজনীতি, যা আমাদের গড়ে তুলতে হবে।
তারা মিথ্যে সৃষ্টি করতে বাধ্য হয়েছে, আমাকে থামাতে। আমি সত্য বলেই যাব। কারণ আমি জানি, সত্যই টিকে থাকবে। সত্যই শেষ কথা বলবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড