খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের প্রধান উত্থানশীল অর্থনীতির নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক আরোপের নীতি এবং ইরানে সাম্প্রতিক ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
রবিবার (৬ জুলাই) অনুষ্ঠিত সম্মেলনে, ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা) নেতারা এই পদক্ষেপগুলোকে ‘ভবিষ্যৎ না ভেবে দেওয়া’ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি
সম্মেলনের পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে বলেন, ‘যেকোনো দেশ যারা ব্রিকসের যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নীতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করবে, তাদের ওপর অতিরিক্ত ১০% শুল্ক আরোপ করা হবে। এ নীতির কোনো ব্যতিক্রম হবে না।’ এই হুমকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, বিশেষ করে সেই সব দেশগুলোর জন্য যারা ব্রিকসের সাথে সম্পর্কিত।
ব্রিকস জোট বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বৈশ্বিক উৎপাদনের ৪০% এরও বেশি অবদান রাখে। যদিও সম্মেলনে ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তার একতরফা শুল্ক নীতির বিরোধিতা করা হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি: ব্রিকস নেতাদের উদ্বেগ
ব্রিকস নেতাদের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একতরফাভাবে শুল্ক বৃদ্ধি নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি, কারণ এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।’ বিশেষত, এসব শুল্ক বৃদ্ধির ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আরও বেশি চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
ইরানকে সমর্থন এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা
সম্মেলনে ইরানকে প্রতীকী সমর্থন জানানো হয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার নিন্দা জানানো হয়। এই হামলাগুলি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চালানো হয়েছে। যদিও ব্রিকস সম্মেলনে ইরানকে নিয়ে যে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তা অনেকটাই ভিন্নমুখী ছিল, কারণ জোটের মধ্যে সৌদি আরব, ভারত ও অন্য দেশগুলোও রয়েছে, যারা ইরানের বিষয়টি নিয়ে সংযমী।
ট্রাম্পের শুল্কের হুমকি: বাজারে উদ্বেগ
এপ্রিল মাসে ট্রাম্প তাঁর মিত্র ও প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে একের পর এক শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন, তবে বাজারে ভয়াবহ দরপতনের কারণে কিছু সময়ের জন্য তা স্থগিত করা হয়েছিল। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী ১ আগস্টের মধ্যে চুক্তি না হলে তিনি একতরফা শুল্ক আরোপ করবেন।
ব্রিকস: যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তির বিকল্প শক্তি
প্রায় ২০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ব্রিকস এখন চীনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা শক্তির বিকল্প শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। তবে জোটের সদস্যসংখ্যা বাড়ানো, যেমন- ইরান এবং সৌদি আরবের মতো নতুন দেশগুলোর যুক্ত হওয়া, এই জোটের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠানে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
চীন ও রাশিয়ার অনুপস্থিতি
এবারের সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উপস্থিতি ছিল না, যা অনেকটা রাজনৈতিক গুরুত্ব কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এটি ১২ বছরের মধ্যে প্রথমবার, যখন তিনি ব্রিকস সম্মেলনে উপস্থিত হননি। এ ছাড়া, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরাসরি সম্মেলনে আসেননি। তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম্মেলনে অংশ নেন। পুতিনকে নিয়ে চলমান আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হল ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা।
এআই ব্যবহারে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের আহ্বান
সম্মেলনে নেতারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই প্রযুক্তি শুধু ধনী দেশগুলোর একচেটিয়া অধিকার হতে পারে না।’ বর্তমানে এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের টেক জায়ান্টরা শীর্ষে থাকলেও চীন ও অন্যান্য দেশগুলোও দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
সূত্র: এএফপি
খবরওয়ালা/আরডি