খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসা পেতে এত দিন বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজন ছিল। তবে এবার বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এসেছে একটি নতুন মনোনয়ন-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসা, যেখানে আর ব্যবসা বা সম্পত্তিতে বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগের দরকার নেই।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগে দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসা পেতে হলে ব্যবসা বা অন্তত ২ মিলিয়ন দিরহাম (৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি) মূল্যের সম্পত্তি কিনতে হতো। কিন্তু নতুন ‘মনোনয়ন-ভিত্তিক ভিসা নীতি’ চালু হওয়ার পর, বাংলাদেশি নাগরিকরা মাত্র ১ লাখ দিরহাম (প্রায় ৩৩ লাখ টাকার কিছু বেশি) ফি দিয়ে গোল্ডেন ভিসা পেতে পারবেন।
এখন এই ভিসা ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশেও পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে। রায়াদ গ্রুপ নামে একটি পরামর্শক সংস্থা এই ভিসার প্রাথমিক রূপটি পরীক্ষা করার দায়িত্ব পেয়েছে। রায়াদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রায়াদ কামাল আইয়ুব এই ভিসাকে ভারতীয় ও বাংলাদেশিদের জন্য একটি ‘সুবর্ণ সুযোগ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য এই নতুন ভিসা প্রকল্প সফলভাবে চালু হলে, এটি অন্যান্য সিইপিএ (কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট) আওতাভুক্ত দেশগুলোতেও চালু করা হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া
এই নতুন গোল্ডেন ভিসার জন্য আবেদনকারীদের অতীত ইতিহাস যাচাই করা হবে। এর মধ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং অর্থপাচারের রেকর্ড যাচাই করা হবে। এছাড়া, আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও পরীক্ষা করা হবে। প্রক্রিয়া শেষে রায়াদ গ্রুপ আবেদনপত্রটি সরকারের কাছে পাঠাবে এবং সরকার নির্দিষ্ট দপ্তর সিদ্ধান্ত নেবে।
আবেদনকারীরা দুবাই ভ্রমণ করে নিজ দেশ থেকে প্রাথমিক অনুমোদন নিতে পারবেন। আবেদনগুলো বাংলাদেশ ও ভারতের ওয়ান ভাস্কো সেন্টার (ভিসা কনসিয়ারজ সার্ভিস কোম্পানি), নিবন্ধিত অফিস, অনলাইন পোর্টাল অথবা ডেডিকেটেড কল সেন্টারের মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে।
নতুন ভিসার সুবিধা
নতুন মনোনয়ন-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি সম্পত্তি-ভিত্তিক ভিসা থেকে আলাদা। সম্পত্তি বিক্রি হলে যেখানে সম্পত্তি-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসা বাতিল হয়ে যায়, সেখানে মনোনয়ন-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসা একবার পেলে তা স্থায়ী হয়ে থাকে।
এ ছাড়া, যেসব বাংলাদেশি এই ভিসার জন্য মনোনীত হবেন, তারা তাদের পরিবারের সদস্যদেরও দুবাইয়ে নিয়ে আসতে পারবেন এবং তাদের ভিসার ওপর ভিত্তি করে গৃহকর্মী ও গাড়িচালক রাখতে পারবেন। তারা দুবাইতে যেকোনো ব্যবসা বা পেশাদার কাজ করতে পারবেন।
এভাবে, নতুন এই ভিসা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দুবাইয়ে থাকার এবং কর্মরত হওয়ার একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
খবরওয়ালা/আরডি