খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
পূর্ববিরোধের জেরে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। ঘটনার পরে সংঘর্ষ থামাতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ১৯ জনকে গুরুতর অবস্থায় নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় বেশ কিছু দোকানপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার বিকেল ৪টা থেকে আগামীকাল মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত নবীগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকে একে অপরের বিরুদ্ধে লেখা নিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার আনমুন এলাকায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আশায়েদ আলীকে গত ৪ জুলাই মারধর করেন অপর গণমাধ্যমকর্মী সেলিম তালুকদার ও তার সহযোগীরা। এ সময়, আনমুন গ্রামের লোকজন হামলাকারীদের মধ্যে দুই তরুণকে আটক করে পুলিশে দেন। ওই দুই তরুণ তিমিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন, যা তিমিরপুর গ্রামের লোকজনের মাঝে উত্তেজনা তৈরি করে। তাদের অপরাধ হিসেবে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তিন দিন আগে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে মারামারি হয়।
স্থানীয়রা জানান, এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে আনমুন ও তিমিরপুর গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর, তারা উপজেলা সদরে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্রশস্ত্রসহ ইটপাটকেল, বল্লম ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করেন। এতে প্রায় শতাধিক লোক আহত হয় এবং কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনার পর উপজেলা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তিমিরপুর ও আনমুন গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। সংঘর্ষে বাজারের কয়েকটি দোকান ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি