খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোসহ অনেক রাষ্ট্র যখন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে, তখন দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেখা যাচ্ছে চরম উদাসীনতা। করোনার পুনরায় বিস্তার ঠেকাতে বিমানবন্দরে কার্যকর কোনো স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থা নেই।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিমানবন্দরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেছে, আগত যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা যাচাই, স্যানিটাইজার সরবরাহ কিংবা মাস্ক পরিধানের বিষয়ে নেই কোনো নির্দেশনা কিংবা তদারকি। যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছেন, অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। ইমিগ্রেশন, লাগেজ বেল্টসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতেও চোখে পড়েনি কোনো সতর্কতামূলক চিহ্ন বা পর্যাপ্ত স্যানিটাইজিং বুথ।
এক প্রবাসী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিমান থেকে নামার পর মনে হলো যেন করোনার কোনো অস্তিত্বই নেই। কেউ কিছু বলছে না, কেউ দেখছেও না।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে উদাসীনতা বজায় থাকলে তা দেশের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এক চিকিৎসক বলেন, বিমানবন্দর হলো যেকোনো ভাইরাসের প্রবেশদ্বার। অতীতে এখানে অব্যবস্থাপনার কারণে বহু মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল। এখন যদি আগেভাগে সতর্কতা না নেওয়া হয়, তবে আবারও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানান, এখনো পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে কার্যকর বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছে, করোনা সংক্রমণ কমলেও এখনো নির্মূল হয়নি। তাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যদিও এ সময়ে করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। চলতি বছরের শুরু থেকে দেশে মোট ৬৪৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, সংক্রমণের হার এখনো কম হলেও গত সপ্তাহের তুলনায় তা ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, বিমানবন্দরে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগত যাত্রীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ, মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে নজরদারি রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিদেশফেরত যাত্রীদের মধ্যে কেউ উপসর্গ বহন করছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সন্দেহভাজনদের কোয়ারেন্টাইন ইউনিটে পাঠানো হচ্ছে।
খবরওয়ালা/টিএস