খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 27শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১১ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চরফ্যাশনে বোরকা পরে ফিল্মি কায়দায় স্ত্রীকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। স্বামী ফরহাদ তার স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে একটি নির্জন কক্ষে তিন ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ।
পরে স্ত্রী কোনোমতে প্রাণে বেঁচে পালিয়ে অন্য এক বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেই বাড়ির লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে তার পরিবার মেয়েকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করে।
বুধবার (১০ জুলাই, ২০২৪) উপজেলার দুলারহাট থানার আবুবকরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত স্বামী ফরহাদ ওই এলাকার লিটন সিকদারের ছেলে। নির্যাতিতা স্ত্রী সুমাইয়া চরফ্যাশন পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাবিবুল্লাহর মেয়ে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই, ২০২৪) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুমাইয়া অভিযোগ করেন, দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুমাইয়া জানতে পারেন তার স্বামী ফরহাদ মাদকাসক্ত এবং বিভিন্ন সময় মাদক সেবন করে তাকে নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার না করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় আট মাস আগে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন এবং একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি নেন।
সুমাইয়ার অভিযোগ, বুধবার সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তার পেছন থেকে একটি সিএনজি আসে। তিনি সেই সিএনজিতে ওঠেন। তবে তার স্বামী ফরহাদ সেই সিএনজিতেই বোরকা পরে নারী সেজে বসে ছিলেন। সিএনজি চালক সুমাইয়াকে বলেন, পৌর শহর থেকে একটু দূরে তার স্ত্রী অপেক্ষা করছেন। এই কথা বলে সিএনজিটি একটি অচেনা রাস্তা দিয়ে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে সুমাইয়া দেখতে পান বোরকা পরা নারীটি আসলে তার স্বামী। এরপর ফরহাদ তাকে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে তিন ঘণ্টা আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করেন।
সুমাইয়ার বাবা হাবিবুল্লাহ জানান, মেয়ের জামাতা ফরহাদ মাদকাসক্ত হওয়ায় তিনি মেয়েকে তার বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। তবে মেয়েকে তুলে নিয়ে এমন অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় তিনি জামাতা ফরহাদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ফরহাদ আত্মগোপনে চলে গেছেন। তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ ইফতেখার জানিয়েছেন, তারা অভিযোগ পেয়েছেন। পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ভিকটিমকে দেখে আসবে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/টিএস