খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, হামলা ও মারপিটের ঘটনায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাঘের বাজার সাফারি পার্ক সড়কের একটি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী অটোরিকশা চালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালকদের ওপর হামলা, গালাগাল ও মারধরের ঘটনা ঘটত।
গত ১১ জুলাই বিকেল চারটার দিকে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে গেলে চালক দেলোয়ার হোসেন (৪৫), রাফিদ মিয়া (১৬) ও রাকিব সরকার (২৩) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধরের শিকার হন। গুরুতর আহত হন রাফিদ মিয়া। দেলোয়ার হোসেনকে মারধর করে তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক ইসলাম উদ্দিনের চালের গুদামে আটকে রাখা হয়।
পুলিশ খবর পেয়ে দেলোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে এবং আহতদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছিল।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন সদর উপজেলার বানিয়ারচালা গ্রামের মৃত নোয়াব আলীর ছেলে মিয়ার উদ্দিন (৪৩), আনিছ আলীর ছেলে শাহজাহান (৪৬), মিয়ার উদ্দিনের ছেলে সুমন মিয়া (২৫) এবং একই গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে ও বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইসলাম উদ্দিন (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল, প্রতারণা ও ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও ছড়িয়েছে।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদ আহমেদ জানান, অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। শহিদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে রবিবার (১৩ জুলাই) আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
থবরওয়ালা/আরডি