খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
ভারতের সাধারণ মানুষ প্রতিদিন যে পরিমাণ লবণ খাচ্ছেন, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি। আর এ কারণেই নিজের অজান্তেই ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা—এমনটাই জানিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর এপিডেমিওলজির বিজ্ঞানীরা।
সংস্থাটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করলে হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা বাড়ে। এর ফলে হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা ও মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিনের লবণ গ্রহণ ৫ গ্রামের কম হওয়া উচিত। অথচ আইসিএমআর-এর তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ভারতের শহরাঞ্চলে বসবাসকারীরা প্রতিদিন গড়ে ৯.২ গ্রাম লবণ খাচ্ছেন। গ্রামাঞ্চলেও এই পরিমাণ ৫.৬ গ্রাম, যা সুপারিশকৃত সীমার চেয়ে বেশি।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিওলজির (NIE) প্রধান গবেষক ও সিনিয়র বিজ্ঞানী শরণ মুরালি জানিয়েছেন, যাঁরা লবণ খেতে পছন্দ করেন, তারা ‘লো-সোডিয়াম’ লবণ বেছে নিতে পারেন। এতে সোডিয়াম ক্লোরাইডের অংশবিশেষ প্রতিস্থাপন করা হয় পটাসিয়াম বা ম্যাগনেশিয়াম লবণ দিয়ে, যা তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর। অল্প মাত্রায় সোডিয়াম গ্রহণে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে। এমনকি শুধু ‘কম সোডিয়ামযুক্ত’ লবণ ব্যবহারে গড় রক্তচাপ ৭/৪ mmHg পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
এই সমস্যা মোকাবেলায় পাঞ্জাব ও তেলেঙ্গানায় তিন বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প শুরু করেছে NIE, যা আইসিএমআর-এর সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য, উচ্চ রক্তচাপে ভোগা ব্যক্তিদের সোডিয়াম গ্রহণ হ্রাস করা।
গবেষকরা চেন্নাইয়ের ৩০০টি দোকানে জরিপ চালিয়ে দেখেছেন, সেখানে মাত্র ২৮ শতাংশ দোকানে লো-সোডিয়াম লবণ পাওয়া যায়। সুপারমার্কেটগুলোতে এই লবণ মিললেও (৫২ শতাংশ), ছোট দোকানে তা পাওয়া যায় মাত্র ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে। এ ছাড়া লো-সোডিয়াম লবণের দাম সাধারণ আয়োডিনযুক্ত লবণের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি, যা এর ব্যবহারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ‘#PinchForAChange’ নামে একটি প্রচারণা শুরু করেছে NIE। টুইটার ও লিংকডইনে এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের কাছে সহজ ভাষায় ইনফোগ্রাফিকের মাধ্যমে অতিরিক্ত লবণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হচ্ছে।
গবেষকদের আশা, এই প্রকল্প সফল হলে ভারতজুড়ে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে এবং মানুষ আরও সুস্থভাবে বাঁচতে পারবেন।
খবরওয়ালা/এন