খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
ভারত চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সোমবার (১৪ জুলাই) বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে সীমান্ত বিরোধ নিরসন, সৈন্য প্রত্যাহার এবং বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ ব্যবস্থা এড়িয়ে চলার জন্য দিল্লি চীনকে আহ্বান জানিয়েছে। ২০২০ সালের পর থেকে চীনের মাটিতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এটি প্রথম বৈঠক।
ভারতের জন্য জয়শঙ্করের এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এর আগের সফরে সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের কারণে সীমান্তে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, যা চার বছর ধরে চলেছিল। পরবর্তীতে দুই দেশের যোগাযোগের মাধ্যমে গত বছরের অক্টোবরে সংঘর্ষ বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকেই চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তে চেষ্টা করছে ভারত, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে।
বৈঠকে জয়শঙ্কর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র কাছে বলেন, ‘গত নয় মাসে সীমান্তে স্থিতিশীলতা এসেছে এবং সম্পর্কের উন্নতির জন্য দুই দেশের মধ্যে ভালো অগ্রগতি হয়েছে।’ সীমান্তের সংঘাত নিরসনের পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চীন ও ভারতের মধ্যে ৩,৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা ১৯৫০ সাল থেকে বিরোধের সৃষ্টি করেছে। এই সীমান্ত নিয়ে বেশ কয়েকটি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৯৬২ সালের সীমান্ত যুদ্ধ অন্যতম। যদিও সীমান্ত বিরোধ নিরসনে আলোচনা চলছে, তবে তা গতিশীল হয়নি।
গত মাসে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বলেন, সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান খোঁজার প্রয়োজন। তাঁর বার্তা ভারতের পক্ষ থেকে একক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে।
জয়শঙ্করও একই মত পোষণ করে বলেছেন, সীমান্ত বিষয়ক অন্যান্য দিক মোকাবেলা করতে হবে, যার মধ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করার জন্য বাণিজ্যিক চ্যানেল তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এ ছাড়া, সম্প্রতি চীন ভারতের বিরল খনিজ পদার্থ এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানি-রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ বিষয়টি সামনে রেখে দিল্লির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। ভারতের বিরল খনিজ পদার্থে বিশ্বের পঞ্চম স্থান হলেও, অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সমৃদ্ধকরণে উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে দেশটি।
খবরওয়ালা/আরডি