খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
মঙ্গল গ্রহ নিয়ে মানুষের কৌতূহল থাকায় প্রতিনিয়ত নতুন কিছু না কিছু চমকপ্রদ তথ্য সামনে আসে। মঙ্গল গ্রহের লাল রঙের কারণে এটি “লাল গ্রহ” হিসেবে পরিচিত। বহু বছর ধরেই মঙ্গল গ্রহকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করার লক্ষ্যে বিজ্ঞানীরা কাজ করে যাচ্ছেন। সেই সাথে মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসবাস সম্ভব হবে কি না বা সেখানে গিয়ে মানুষ কীভাবে থাকবে, সে বিষয়ে চর্চা চলছে।
এবার সেই কৌতূহলকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল মঙ্গল গ্রহ থেকে আসা একটি বিশাল পাথরখণ্ড। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান সোথবিস আগামী ১৬ জুলাই নিউইয়র্কে এই পাথরখণ্ডটি নিলামে তুলতে যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, পাথরটির নাম ‘এনডাব্লিউএ ১৬৭৮৮’। নিলাম প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এটি এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে পাওয়া সবচেয়ে বড় মঙ্গলগ্রহ-উৎপত্তি উল্কাপিণ্ড। এর ওজন ২৫ কেজিরও বেশি এবং প্রস্থ প্রায় ১৫ ইঞ্চি। পৃথিবীতে যত মঙ্গল-উল্কাপিণ্ড পাওয়া গেছে, তার মধ্যে এই একটি খণ্ডই প্রায় ৬.৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে। তুলনামূলকভাবে, এটি অন্যান্য উল্কাপিণ্ডের চেয়ে ৭০ শতাংশ বড়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাথরখণ্ড আসলে একটি প্রাচীন মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে তৈরি হয়। মঙ্গলের পৃষ্ঠে কোনো এক সময় এক বিশাল গ্রহাণুর আঘাতে ছিটকে বের হয়ে মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছিল এই পাথরের টুকরো। একপর্যায়ে এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সাহারা মরুভূমির নাইজার অংশের আগাদেজ অঞ্চলে এসে পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালে।
পাথরটি প্রায় ২২৫ মিলিয়ন মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে পৃথিবীতে পৌঁছেছে। নিলামে এর মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৮ থেকে ৪৯ কোটি টাকা।
সোথবিসের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ৭৭ হাজার উল্কাপিণ্ড এর মধ্যে মাত্র শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ মঙ্গল গ্রহের বলে চিহ্নিত হয়েছে। সংখ্যায় তা মাত্র ৪০০টি। ফলে এই ‘এনডাব্লিউএ ১৬৭৮৮’ উল্কাপিণ্ড শুধু আকারে বিশালই নয়, বরং বিরলতার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞান, মহাকাশ এবং সংগ্রাহকদের কাছে এই পাথরখণ্ড এক অনন্য নিদর্শন। নিলামে এর দাম কত পর্যন্ত পৌঁছাবে তা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। তবে একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়—মঙ্গলের এই পাথর শুধু গবেষণার জন্য নয়, বরং কল্পনার জগৎকেও বাস্তবতায় নিয়ে এসেছে।
সূত্র: ইউএসএ টুডে
খবরওয়ালা/আরডি