খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান এবং তাঁর স্ত্রী সালমা ওসমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তানজির আহমেদ।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, শামীম ওসমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। একইসঙ্গে ৯টি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে ৪৩৯ কোটি ৮২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৮০ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন, যা অর্থের হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের শামিল বলে দুদক মনে করছে।
এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে।
তিনি বলেন, ৯টি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে ৪৩৯ কোটি ৮২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৮০ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করে অর্থের হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করেছেন। এতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
এ ছাড়া শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান ও মেয়ে লাবীবা জোহা অঙ্গনার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। এ অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬(১) ধারা মোতাবেক পৃথক ২টি সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে দুদক প্রথম অনুসন্ধান শুরু করে ২০০৭ সালে। তখন তার সম্পদের হিসাব গোপন রাখা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়, কিন্তু দীর্ঘ সময় এটি স্থবির ছিল। ২০২৪ সালের শেষে ক্ষমতায় পরিবর্তনের পর দুদক তার বিরুদ্ধে পুনরায় অনুসন্ধান শুরু করে। কমিশনের বিশেষ একটি শাখা তার ব্যাংক লেনদেন এবং সম্পদের তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করে। এই অনুসন্ধানের ভিত্তিতে দুদক আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করে।
খবরওয়ালা/এন