খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
গোপালগঞ্জে এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) সভায় হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ‘ট্রল’ পোস্ট দেয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মোশফেকুর রহমান।
বুধবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় দেয়া সেই পোস্টকে কেন্দ্র করে রাতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নেতাকর্মীরা।
ঘটনার সূত্রপাত সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়, যখন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশফেকুর রহমান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেন:“ট্যাংকের এসি খুব আরামদায়ক শুনেছি।”

এই পোস্টটি এনসিপির সভায় হামলায় আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ নিয়ে তির্যক মন্তব্য হিসেবে ব্যাখ্যা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ দিনাজপুর জেলা কমিটির নেতাকর্মীরা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং মোশফেকুর রহমানকে দিনাজপুর থেকে প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা জেলা কমিটির আহ্বায়ক একরামুল হক আবির বলেন,“এক বছর আগে এই পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের আন্দোলনের সময় গুলিবর্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি দিনাজপুরে রয়েছেন এবং আমাদের নানা সময় হয়রানি করে আসছেন। এখন তিনি গোপালগঞ্জের হামলার ঘটনায় ট্রল করে পোস্ট দিয়ে আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি পক্ষপাতদুষ্ট। আমাদের দাবি, তাকে শুধু প্রত্যাহার নয়—তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করতে হবে।”
এদিকে আন্দোলনের খবর পেয়ে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হোসেন ঘটনাস্থলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান,“ফেসবুক পোস্টটি দেখার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশফেকুর রহমানকে দিনাজপুর থেকে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।”
তবে এই ঘোষণায় সন্তুষ্ট নয় আন্দোলনকারীরা। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, মোশফেকুর রহমানকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এই ঘটনা ঘিরে দিনাজপুরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক মাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
খবরওয়ালা/আশ