খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে চারজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং ২৩ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ৩৪৬ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস বন্ধ রাখা, আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার কারণে শাস্তির মুখে পড়ছেন। তালিকাভুক্ত ৩৪৬ জনের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার প্রমাণ মিলবে, তাদের বিরুদ্ধেও চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনবিআরের অনেক কর্মকর্তা অভিযোগ করছেন, ক্ষমা চাওয়ার পরও একের পর এক শাস্তি কার্যকর করা হচ্ছে। তারা বলছেন, এটি হতাশাজনক এবং এতে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের গণশাস্তি রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, “সংস্কারের পক্ষেই ছিলাম আমরা। অথচ এখন আমাদের অপরাধী বানিয়ে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এতে দেশের লাভ কী?”
গত ১২ মে সরকারের পক্ষ থেকে এনবিআর পুনর্গঠন করে ‘রাজস্ব নীতি’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি বিভাগ গঠন করা হয়। এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন।
সরকারের আশ্বাসে কিছুদিন আন্দোলন স্থগিত থাকলেও, চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকে। এর মধ্যেই এনবিআরের পক্ষ থেকে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়, যা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনকারীরা সংবাদ সম্মেলনে আদেশের কপি ছিঁড়ে ফেলেন।
২৯ জুন ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়—কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এরপর আন্দোলন স্থগিত হয়।
তবুও পরবর্তীতে তিন সদস্য ও এক কমিশনারকে অবসরে পাঠানো হয়, চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনারসহ ২১ জন সাময়িক বরখাস্ত হন। একজন কর্মচারী এনবিআর চেয়ারম্যানকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছেন। এছাড়া দুদক ১৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আমলা ফিরোজ মিয়া বলেন, “গণহারে শাস্তি দিলে কর্মীদের মধ্যে ভয় বাড়বে। এতে কাজের মান ও উৎসাহ কমবে। সরকারের উচিত ছিল কৌশলী পদক্ষেপ নেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “দমন নয়, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা দরকার ছিল।
খবরওয়ালা/টিএস