খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
আগামী সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটাধিকার প্রদান বিষয়ে যুগান্তকারী এক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার।
নতুন নির্বাচন বিলের আওতায় ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা ভোট দিতে পারবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে দেশটি।
নতুন বিলে আরও বেশ কয়েকটি সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ভোটার পরিচয়পত্র হিসেবে যুক্তরাজ্যে ইস্যু করা ব্যাংক কার্ড গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় নিবন্ধনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে স্থানীয় সরকার ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে ইতোমধ্যে ১৬ বছর বয়সী নাগরিকরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকলেও, পুরো যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচন, ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচন এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের সব ধরনের নির্বাচনে এখনো ভোট দেওয়ার বয়সসীমা ১৮ বছর।
সারা যুক্তরাজ্যে ভোটাধিকার বয়স ১৬-তে নামিয়ে আনার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ১৯৬৯ সালের পর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। কারণ, ওই বছরই প্রথমবারের মতো ভোটের বয়সসীমা ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ করা হয়েছিল।
এই প্রস্তাব লেবার পার্টির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হলেও, গত গ্রীষ্মে রাজার ভাষণে বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। তবে নির্বাচনী সংস্কারবিষয়ক মন্ত্রী আলী জানিয়েছেন, ভোটার বয়স কমিয়ে আনার বিষয়টি সরকার ২০২৯ সালের পূর্বেই কার্যকর করতে চায়। যদিও ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠিত হতে পারে।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী আলী বলেন, “১৬ বছর বয়সে একজন তরুণ কাজ করতে পারে, কর দেয়, এমনকি সেনাবাহিনীতেও যোগ দিতে পারে। তাহলে সে নিজের দেশ পরিচালনায় মত দিতে পারবে না—এটা কি যৌক্তিক?”
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম বিভ্রান্তিকর’ বলে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন কনজারভেটিভ দলের ছায়ামন্ত্রী পল হোমস। হাউস অব কমন্সে তিনি বলেন, “১৬ বছর বয়সী কেউ যখন লটারির টিকিট কিনতে পারে না, মদ্যপান করতে পারে না, বিয়েও করতে পারে না, এমনকি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াও নিষিদ্ধ—তাহলে তাকে ভোটাধিকার কেন দেওয়া হবে?”
ভোটাধিকার নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন এই বিতর্কে একদিকে তরুণদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিলেও, অন্যদিকে নীতিনির্ধারকদের মাঝে মতবিরোধও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
খবরওয়ালা/আশ