খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
বগুড়ায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় খুন হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে শ্বশুরের ফোনে কল করেছিলেন গৃহবধূ উম্মে হাবিবা (২০)। দ্রুত বাড়ি আসতে অনুরোধ করেন তিনি। কিন্তু কথা শেষ হওয়ার আগেই ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে ভেসে আসে আর্তচিৎকার ও কান্নার শব্দ। এরপর বাড়ি ফিরে দেখেন—বউমা হাবিবার সঙ্গে খুন হয়েছেন নিজের মা লাইলী বেওয়া (৬৫)। আর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে কাতরাচ্ছে তাঁর স্কুলপড়ুয়া কন্যা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসলামপুর হরিগাড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকায় নিজের বাড়িতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দেন নিহতদের স্বজন বুলবুল আহম্মেদ প্রামাণিক (৪৫)। এর কিছুক্ষণ আগে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে আনা হয় লাশ দুটি।
পরিবারের দাবি, প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই বাড়িতে হাজির হয় ইসলামপুর হরিগাড়ির বাসিন্দা সৈকত আহমেদ (১৮)। জোর করে স্কুলছাত্রীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে সে। বাধা দিলে প্রথমে ছুরিকাঘাত করে মেয়েটিকে, পরে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ছুরি চালায় তার দাদি লাইলী বেওয়া এবং ভাবি উম্মে হাবিবার ওপরও।
ওই সময় বুলবুল আহম্মেদ ও তার স্ত্রী পারভীন আক্তার পাশের এলাকায় তাঁদের মুদি দোকানে বেচাকেনায় ব্যস্ত ছিলেন। রাত ৮টা ৩৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে হাবিবার ফোন আসে বুলবুলের কাছে। কল রেকর্ড অনুযায়ী হাবিবাকে বলতে শোনা যায়, ‘হ্যালো আব্বু, বাড়িতে আসেন তো।’ জবাবে বুলবুল বলেন, ‘ক্যা?’ (কেন?), এর পরপরই ফোনে ভেসে আসে আতঙ্কভরা চিৎকার, কান্না ও বিশৃঙ্খলার শব্দ।
বুলবুল ছুটে বাড়িতে ফিরে দেখেন—বউমা ও মায়ের নিথর দেহ পড়ে আছে মেঝেতে। অন্য পাশে আহত অবস্থায় যন্ত্রণায় ছটফট করছে তাঁর কিশোরী মেয়ে। বাড়ি ঢুকতেই চোখে পড়ে, হাতে রক্তমাখা ছুরি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্ত সৈকত। তার সঙ্গে ছিল আরও একজন।
বগুড়া সদর থানার ওসি হাসান বাসির জানান, স্থানীয়ভাবে পরিচিত বখাটে সৈকত আহমেদকে আটক করা হয়েছে। সে একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতদের লাশ বৃহস্পতিবার দাফন করা হয়। আর গুরুতর আহত স্কুলছাত্রী বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আবদুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, তবে এখনও তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয়।
খবরওয়ালা/টিএস