খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
শুধুমাত্র বেশি উপার্জন করা মানেই যেকোনো দেশকে ধনী বলা যায় না, তা বোঝানোর জন্য ১৭৮টি দেশের র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে দ্য ইকোনমিস্ট। তাদের মূল্যায়ন তিনটি মাপকাঠি অনুযায়ী করা হয়েছে।
প্রথমত, দেশের বাজারে প্রচলিত বিনিময় হারের বিপরীতে মাথাপিছু জিডিপি—যা সহজ এবং জনপ্রিয় পদ্ধতি হলেও দেশের মধ্যে দ্রব্যের দাম পার্থক্যকে উপেক্ষা করে।
দ্বিতীয় পদ্ধতি হচ্ছে, ক্রয়ক্ষমতা সমতা (পিপিপি)—যেটি আয় সমন্বয় করে জীবনযাত্রার মানের একটি পরিষ্কার ধারণা দেয়, তবে এটি অবসর সময়কে বিবেচনায় নেয় না।
তৃতীয় মাপকাঠি হচ্ছে, স্থানীয় বাজারে দ্রব্যমূল্য এবং কাজের সময় দুটোই অন্তর্ভুক্ত করা।
এই তিনটি পদ্ধতি অনুযায়ী শীর্ষস্থানে থাকা তিনটি দেশ হল সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, এবং নরওয়ে। সুইজারল্যান্ডে গড় আয় ১ লাখ ডলারের বেশি, সিঙ্গাপুরের গড় আয় ৯০ হাজার ৭০০ ডলার, এবং নরওয়ের গড় আয় ৮৬ হাজার ৮০০ ডলার। তবে সুইজারল্যান্ড অত্যন্ত ব্যয়বহুল দেশ হওয়ায়, এখানকার উচ্চ আয় অনেকটা ক্ষুণ্ণ হয়ে যায়। এই কারণে, স্থানীয় খরচের সঙ্গে সমন্বয় করলে সিঙ্গাপুর এগিয়ে থাকে। আর কাজের সময়ের হিসাব অনুযায়ী, নরওয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে।
তালিকায় কাতার এবং ডেনমার্কের পরই রয়েছে আমেরিকা, যেটি এই তিনটি পদ্ধতিতেই যথাক্রমে চতুর্থ, সপ্তম এবং ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। ব্রিটেন যথাক্রমে ১৯, ২৭, এবং ২৫ নম্বরে অবস্থান করছে।দেশগুলোর র্যাঙ্কিংয়ের পরিবর্তন সামাজিক রীতিনীতির প্রতিফলনও ঘটায়।
উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো দেশগুলো, যেখানে নারীরা কম বেতনভুক্ত কাজে নিয়োজিত। সেখানে উচ্চ আয় শুধুমাত্র কিছু বিশেষ মানুষের মধ্যে কেন্দ্রীভূত থাকে। অন্যদিকে, ইতালি ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোর র্যাঙ্কিংয়ে বয়সের ভিত্তিতে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়—যেখানে ইতালিতে অবসরপ্রাপ্ত জনগণের সংখ্যা বেশি এবং নাইজেরিয়ায় তরুণ জনগণের সংখ্যা বেশি।
গত বছর র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি দেখিয়েছে গায়ানা, যার আয় গত বছরে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ, দেশটির জ্বালানি তেল শিল্পের উন্নতি। আমেরিকা গড়ে ১.৬ ধাপ এগিয়েছে, যদিও তাদের শুল্ক জীবনযাত্রার মানে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।
তালিকার নিচে অবস্থান করছে বুরুন্ডি, যেখানে আয় সুইজারল্যান্ডের মাত্র দশমিক ১৫ শতাংশ। এ দেশে জনসংখ্যার বেশিরভাগই ১৭ বছরের নিচে, ফলে আয়ের বৈষম্য প্রকট।
এই রিপোর্টের মাধ্যমে বোঝা যায়, ধনী হওয়ার জন্য শুধু উপার্জনই যথেষ্ট নয়। বরং জীবনযাত্রার মান, কর্মঘণ্টা এবং স্থানীয় খরচের পার্থক্যও অনেক বড় ভূমিকা রাখে।
খবরওয়ালা/আরডি