খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
মায়ের অপমান ও মারধর ভুলতে পারেননি সোনু কাশ্যপ। এক দশক ধরে সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে ঘুরেছেন রাস্তায় রাস্তায়। শেষমেশ লখনৌর মুন্সি পুলিয়া এলাকায় খুঁজে পান সেই মানুষকে— নারকেলের পানি বিক্রেতা মনোজকে যে এক সময় তাঁর মাকে অপমান ও আঘাত করেছিলেন। তারপর শুরু হয় প্রতিশোধের পরিকল্পনা, শেষ হয় খুনে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ভারতের এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় এই হৃদয়বিদারক অথচ রুদ্ধশ্বাস গল্প।
প্রায় ১০ বছর আগে তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে মনোজ সোনুর মাকে মারধর করেন। অপমান সইতে না পেরে প্রতিশোধের শপথ নেন সোনু। মনোজ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলে সোনু তার খোঁজে থাকেন বছরের পর বছর। অবশেষে তিন মাস আগে মনোজকে খুঁজে পান এবং খুনের নীলনকশা আঁকেন।
মনোজের দৈনিক রুটিন, দোকান বন্ধের সময় সবকিছু নজরে রাখেন সোনু। এরপর চার বন্ধুকে— রঞ্জিত, আদিল, সালামু ও রেহমত আলীকে— সঙ্গে নেন। শর্ত ছিল একটাই: খুনের পর হবে পার্টি।
গত ২২ মে দোকান বন্ধ করার পর একা থাকাকালে মনোজকে রড দিয়ে আঘাত করেন তারা। রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে চলে যায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
খুন করে শান্তি পেলেও নিজেদের গোপন রাখতে পারেনি সোনু ও তার দল। প্রতিশোধ শেষ হওয়ায় তারা পার্টির আয়োজন করে। মদ, নাচ-গান আর আনন্দের সেই পার্টির ছবি পোস্ট করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এই ছবিই হয়ে ওঠে পুলিশের তদন্তের মূল সূত্র। হত্যার সময় যে কমলা টি-শার্ট পরে ছিল এক অভিযুক্তের, একই টি-শার্ট পরে তাকে দেখা যায় পার্টির ছবিতে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সোশ্যাল মিডিয়ার ছবির মিল খুঁজে পায় পুলিশ। এরপর একে একে শনাক্ত করে পাঁচজনকেই গ্রেফতার করে।
বলিউড সিনেমার মতো হলেও ঘটনা ছিল একেবারে বাস্তব— যেখানে প্রতিশোধের নেশায় একজন তরুণ অপেক্ষা করেছে দশ বছর, আর ধরা পড়েছে নিজেরই উদযাপনের ফাঁদে পা দিয়ে।
খবরওয়ালা/টিএস