খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ‘জুলাই ৩৬’ নামক বর্তমান আবাসিক হলের পূর্বনাম ‘ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’ বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ১৫ জন নারী শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে একাডেমিক ও আবাসিক হল থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল (বর্তমান জুলাই ৩৬ হল)-এর প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. তাহসিন ফারজানা। এর আগে গত ২০ জুলাই ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. হেলাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত আদেশনামায় বহিষ্কারের আদেশ জারি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি রাতে হলের পুরনো নাম (ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) বহাল রাখার দাবিতে কিছু ছাত্রী বিক্ষোভ করে অশোভন ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হন। ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ‘অর্ডিন্যান্স ফর স্টুডেন্ট ডিসিপ্লিন’-এর ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী এবং বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিনের ১৩ জুলাইয়ের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শাস্তিপ্রাপ্তদের তালিকা
আজীবন হল বহিষ্কার
কৃষিতত্ত্ব বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সাইদা উম্মে রুমান বন্যা।
দুই সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক ও হল থেকে বহিষ্কার: ডেইরি সায়েন্স বিভাগের লায়াবিন লতা, অ্যাকোয়াকালচার বিভাগের ইন্তা ইয়াসমিন, সেঁচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাদিকা তানজিল মিম, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের শবনম মুস্তারী।
এক সেমিস্টার একাডেমিক, দুই সেমিস্টার হল বহিষ্কার:
কৃষি অর্থনীতির ইসরাত জামান ইশা, অ্যাকোয়াকালচার বিভাগের রিফাহ্ তাসনিম।
এক সেমিস্টার একাডেমিক ও হল থেকে বহিষ্কার:
কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মনিরা মেইজাবীন, কীটতত্ত্ব বিভাগের রোবাইয়া শারমিন, পশুপালন অনুষদের সাবিয়া আফরিন প্রভা
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের তাহরীমা আক্তার জয়া, ওয়েটল্যান্ড এগ্রিকালচারের নাসরিন সুলতানা, মেডিসিন বিভাগের আফরোজা মজিদ।
শুধু এক সেমিস্টারের জন্য হল বহিষ্কার:
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শামীম লাভলী, কৃষি অনুষদের অদিতি বড়ুয়া মীম।
ঘটনার পটভূমি:
গত ৯ জানুয়ারি রাত ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত হলের পুরনো নাম (ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) বহাল রাখার দাবিতে কিছু ছাত্রী বিক্ষোভ করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভোস্ট ও প্রক্টরের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য ও পদত্যাগ দাবি করে পোস্ট করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযোগটি আমলে নেয় এবং পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. জোয়াদ্দার ফারুক আহমেদ, সদস্য সচিব ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. সোনিয়া সেহেলী এবং সদস্য ছিলেন জিটিআইয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক।
বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. হেলাল উদ্দীন বলেন, ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তারা সুষ্ঠু তদন্ত শেষে বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সেখানকার সিদ্ধান্ত মোতাবেক শাস্তির আদেশ জারি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, যাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে, তাদের শাস্তির মেয়াদ নির্ধারিত আছে। কেউ যদি দোষী না হয়ে থাকে, তারা কারণ দর্শানোর সুযোগ পাবেন। আপাতত কেউ আপিল করেনি, তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে নিয়ম অনুযায়ী আপিল করতে পারবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন