খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
মেডিকেল কলেজে পড়ার স্বপ্ন দেখত ১৬ বছরের শিবশরণ ভুতালি তালকোটি। লক্ষ্য ছিল চিকিৎসক হওয়া। দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়ে সেই পথেই এগোচ্ছিল সে। কিন্তু মায়ের মৃত্যু সবকিছু পাল্টে দেয়। মায়ের শোকে ভেঙে পড়ে শিবশরণ। শেষপর্যন্ত মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই সে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের সোলাপুর শহরে। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, শিবশরণের মা তিন মাস আগে জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর থেকে ছেলেটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। মায়ের মৃত্যু তাকে গভীরভাবে বিষণ্ন করে তোলে। সে দাদাবাড়িতে চাচা ও দাদির সঙ্গে থাকছিল। শুক্রবার সেখানেই তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশেই পাওয়া যায় একটি চিরকুট।
তাতে লেখা, ‘আমি শিবশরণ। মৃত্যুকে বরণ করছি, কারণ, আমি আর বেঁচে থাকতে চাই না। আমার মা যখন মারা গিয়েছিলেন, তখনই আমার চলে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমার চাচা আর দাদিকে দেখে তখন এই সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। আমি মরে যেতে চাইছি, কারণ, গতকাল আমি আমার মাকে স্বপ্নে দেখেছিলাম। তিনি জানতে চান, আমি এত মনমরা থাকি কেন। তিনি আমাকে তাঁর কাছে যেতে বলেন। তাই আমি মরে যাওয়ার কথা ভাবলাম। আমি আমার চাচা আর দাদির কাছে কৃতজ্ঞ। তাঁরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। অনেক আদর করেছেন।’
চিরকুটে চাচার উদ্দেশে একটি বার্তাও দেয় শিবশরণ। সে লেখে, ‘চাচা, আমি মারা যাচ্ছি। আমি চলে যাওয়ার পর আমার বোনকে সুখী রেখো। আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই। দাদিকে বাবার কাছে পাঠিও না। তোমরা সবাই নিজেদের খেয়াল রেখো। আমার মা-বাবার চেয়েও বেশি কিছু তোমরা আমার জন্য করেছ।’
‘আমার মৃত্যুর জন্য কেবল আমিই দায়ী।’
পুলিশের ভাষ্য, মেডিকেলে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল শিবশরণ।
এ ঘটনায় সোলাপুরে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
খবরওয়ালা/এন