খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং দর্শনের মতো ভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকদের। অথচ বোর্ডের অধীনেই আইসিটি বিষয়ের ২৪১ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিষয়ভিত্তিক যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মনে করছেন, আইসিটির মতো কারিগরি বিষয়ে অভিজ্ঞ না-হওয়া শিক্ষকদের দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করালে প্রকৃত ফল প্রতিফলিত নাও হতে পারে। এতে ফলাফল বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর রুনা নাছরীন বলেন, ‘অনেক শিক্ষক রয়েছেন, যারা ভিন্ন বিষয়ে ক্লাস নিলেও আইসিটি বিষয়ে দারুণ অভিজ্ঞ। তাদেরই খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান প্রধানের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষকরা আবেদন করেন। অধ্যক্ষরা যাচাই করেই বোর্ডে পাঠান। ফলে মূল্যায়নে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’
তবে বোর্ড সূত্র জানায়, এ বছর আইসিটির খাতা মূল্যায়নে প্রধান পরীক্ষক থাকবেন ২৬ জন, এর মধ্যে ১৯ জন আইসিটির শিক্ষক হলেও বাকি ৭ জন ভিন্ন বিষয়ের। পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ২২৭ জন, যাদের মধ্যে ১৮০ জন আইসিটির এবং ৪৭ জন অন্যান্য বিষয়ের—যেমন ইসলামের ইতিহাস, প্রাণীবিদ্যা, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের শিক্ষক। ফলে বোর্ডে পর্যাপ্ত আইসিটি শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকদের।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইসিটি একটি বিশেষায়িত বিষয়। এতে প্রোগ্রামিং, এইচটিএমএল, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার বিষয়ক জটিল কনসেপ্ট রয়েছে, যা ভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকদের কাছে বোধ্য নাও হতে পারে। এতে করে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে মূল্যায়িত হওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুমিল্লার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইসিটি বিষয়ের এক শিক্ষক অভিযোগ করেন, ‘অনেক ভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক তথ্য গোপন করে পরীক্ষকের দায়িত্ব চান। বোর্ডের একটি প্রভাবশালী চক্র টাকার বিনিময়ে তাদের সেই সুযোগ করে দেয়। কারণ পরীক্ষক হলে পরবর্তীতে প্রাইভেট শিক্ষার্থী পাওয়া সহজ হয়। অথচ উচ্চমাধ্যমিকে আইসিটিতে সি প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল ডিভাইসের মতো বিষয় আছে, যা ইতিহাস বা প্রাণীবিদ্যার শিক্ষকদের বোঝা কঠিন।’
এক শিক্ষার্থী অভিভাবক আব্দুল জলীল বলেন, ‘আমার সন্তান একবছর ধরে মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করেছে। এখন যদি আইসিটির খাতা মূল্যায়ন করেন এমন কেউ, যিনি বিষয়টি ভালোভাবে বোঝেন না, তাহলে তার পরিশ্রম ব্যর্থ হতে পারে। আমরা চাই, আইসিটির খাতা মূল্যায়ন যেন আইসিটি শিক্ষকরাই করেন।’
সার্বিক বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো: শামছুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
খবরওয়ালা/এন