খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নিয়োগ কমিটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবে দলীয় অবস্থান পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের কাছে এমন বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
তিনি বলেন, “কমিশনের প্রস্তাবে প্রায় সব দল একমত হলেও বিএনপি পিএসসি ও দুদকের নিয়োগ কমিটি সংবিধানে যুক্ত করার বিরোধিতা করেছে। আমরা তাদের কাছে আহ্বান জানাই—যেভাবে নির্বাচন কমিশন নিয়ে অবস্থান বদলেছেন, এখানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনুন।”
উল্লেখ্য, শুরুতে কমিশন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে একটি ৯ সদস্যের জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু বিএনপিসহ কয়েকটি দলের আপত্তিতে পরে তা পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি “নিয়োগ কমিটি” গঠনের প্রস্তাব আনা হয়, যা নির্বাচন কমিশন, দুদক, পিএসসি, মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে দায়িত্বশীল হবে।
তবে বিএনপি এই প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে। তাদের মতে, এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে নির্বাহী বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে। দলটি এটিও শর্ত দেয় যে, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল নির্ধারণের প্রস্তাব মানলেও সাংবিধানিক নিয়োগ নিয়ে কোনো কমিটির বিধান সংবিধানে রাখা যাবে না।
এ প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, “গত পাঁচ দশকে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ করেছে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠান জনসমর্থন ও আস্থার জায়গা হারিয়েছে। দলনিরপেক্ষ একটি সিলেকশন কমিটির মাধ্যমেই এই অবস্থা পাল্টানো সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হোক, দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নয়। দুদক এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, যেটি অনেক সময় ক্ষমতাসীনদের রক্ষা আর বিরোধীদের টার্গেট করার অস্ত্রে পরিণত হয়। এটিকে সংবিধানে সুরক্ষিত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করতে হবে।”
আখতার হোসেন মনে করেন, সংবিধানের ১৩৮ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নিয়োগের বর্তমান ধারা বদলানো সময়ের দাবি। “নিরপেক্ষ যাচাই কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা বড় কোনো পরিবর্তন নয়—বরং এটা কার্যকর জবাবদিহি ও সুশাসনের সূচনা হবে,” বলেন তিনি।
খবরওয়ালা/আশ