খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
টিউশনি করে নিজেরা পড়ালেখার খরচ চালাতেন সাকাদাউন সিয়াম ও তার ছোট ভাই সাদমান সাদাব। এক সময় তাদের শিক্ষায়ত্নপূর্ণ জীবনযাপন ছিল এলাকার নজরে। তবে কয়েক মাস আগে হঠাৎ টিউশন ছেড়ে দেন তারা। এরপর এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিস্ময়কর এক খবর, রাজধানীর গুলশানে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই ভাই। এ খবরে হতভম্ব হয়ে পড়েন পরিবার ও পরিচিতজনেরা।
জানা যায়, সিয়াম ও সাদাব দুজনই ঢাকার প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। তাদের আদি বাড়ি নাটোরের গোপালপুর হলেও বর্তমানে তারা রাজশাহীতে পরিবারসহ বসবাস করেন। বাবা এসএম কবিরুজ্জামান একটি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে কর্মরত, যিনি কষ্ট করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।
গত ২৭ জুলাই রাতে গুলশানের আওয়ামী লীগের নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা আদায়ের অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে ছিলেন সিয়াম ও সাদাবও। পুলিশ জানায়, তারা সমন্বয়ক পরিচয়ে এর আগেও ১০ লাখ টাকা আদায় করেন এবং ওইদিন আরও অর্থ নিতে এসেছিলেন।
গুলশান থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, তারা এক কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। চাঁদা আদায়ে গেলে পুলিশ তাদের আটক করে।
ঘটনার পর দুই ছেলের গ্রেপ্তারে ভেঙে পড়েছেন বাবা কবিরুজ্জামান। তিনি বলেন, “আমার আয় খুব কম। মাস শেষে যা হাতে থাকে, তাতে ছেলেদের পড়ালেখার খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। আগে তারা টিউশন করত, এখন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত, দাড়ি রাখত। এমন কাজ করবে, কখনো ভাবিনি।’
রাজশাহীর খড়খড়ি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি শেষ করা এই দুই ভাই সম্পর্কে স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয় রাজনীতিক মোবাশ্বের আলী বলেন, ‘ওরা আমাদের স্কুলের মেধাবী ছাত্র ছিল। এমন ঘটনায় জড়াবে, তা ভাবাই যায় না।’
চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর তাদের চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে সিয়াম ও সাদাব ছাড়াও রয়েছেন ইব্রাহিম হোসেন মুন্না ও আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ। চারজনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের সবাইকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসঙ্গে তাদের নানা ছবি পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় রাজশাহীর স্থানীয় বাসিন্দারাও হতবাক। তারা বলছেন, সমাজের সক্রিয় ছাত্র রাজনীতি হঠাৎ কীভাবে এমন বিতর্কিত পথে গেল—তা বোঝা মুশকিল।
খবরওয়ালা/এমএজেড