খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৩ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৩৯ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২আগষ্ট) ভাড়া করা একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।
ফেরত আসাদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। এই দফায় যাদের পাঠানো হয়েছে, তাদের সবাইকে হাতকড়া ও পায়ে শিকল পরিয়ে আনা হয়, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ফ্লাইটটি পাকিস্তান হয়ে ঢাকায় আসে। একই বিমানে পাকিস্তানের নাগরিকদেরও ফেরত পাঠানো হয়। দীর্ঘ প্রায় ৬০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে দেশে ফেরা এসব মানুষদের চোখেমুখে ছিল চরম ক্লান্তি ও অবসাদ।
ফেরত আসা ঢাকার জিঞ্জিরার বাসিন্দা মো. ফাহিম বলেন, “আমাদের হাত-পা শিকলে বাঁধা ছিল। শুধু পাউরুটি আর পানি দেওয়া হয়েছে, তাও চেয়ে নিতে হয়েছে। টয়লেটেও যেতে দেওয়া হতো অফিসার নিয়ে। বাবার শরীর খারাপ হলে কিছু সময়ের জন্য শিকল খুলেছিল।”
ফাহিম জানান, তিনি ও তাঁর বাবা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কানাডা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং সেখানে আটক হন। পরে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে আবেদন করলেও তা নাকচ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, “হাতকড়া ও শিকল পরানো স্পষ্টত মানবাধিকার লঙ্ঘন। যারা ফিরেছেন, তারা অনেকেই ঘরবাড়ি বিক্রি করে, ধারদেনা করে ৩০–৪০ লাখ টাকা খরচ করে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের এইভাবে ফেরত আসতে হলো।”
তিনি বলেন, “আইন অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো কোনো দেশই চাইলে পারে। তবে বন্দির মতো ব্যবহার অনৈতিক এবং অমানবিক।”
ফেরত আসাদের একজন বলেন, “আমরা অপরাধী নই। আমরা শুধু আশ্রয় চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে বন্দিদের মতো।”
ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, আগের দফাগুলোর তুলনায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ ভিন্ন ছিল। আগের দফায় ফেরত পাঠানোদের কাউকে হাতকড়া বা শিকল পরানো হয়নি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অতীতে মানবিক আচরণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র সাড়া দিয়েছিল। এবার তা মানা হয়নি বলেই মনে হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অভিবাসন নীতির কড়াকড়ির ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ভারত, ব্রাজিলসহ অনেক দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এমন হাতকড়া পরানোর ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
খবরওয়ালা/আশ