খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ আগস্ট ২০২৫
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রবিবার (৩ আগস্ট) বিকেলে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে প্রত্যাশিত জনসমাগম দেখা যায়নি। দলটি এই সমাবেশকে ‘ভবিষ্যতের রাজনীতির নতুন মাইলফলক’ হিসেবে ঘোষণা দিলেও বাস্তবে জনসাড়া ছিল খুবই সীমিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপি নেতাদের ক্রমাগত মব ভায়োলেন্স ও চাঁদাবাজি, শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ এবং একই দিনে বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের বিশাল সমাবেশের প্রভাব মিলিয়েই এনসিপির আয়োজনটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। এছাড়া আইনশৃংখলাবাহিনীর পাহারায় দেশব্যাপী কর্মসূচি পালনের কারণে জনগণ এই দলটির প্রতি আস্থা হারিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান চাঁদাবাজি, অশালীন বক্তব্য, শিষ্টাচারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও সংঘাতমূলক মব রাজনীতির কারণে জনগণ তাদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে।
পলিটিক্যাল অ্যানালিস্ট আমিনুল করিম বলেন, ‘একদিকে রাজনৈতিক পরিচ্ছন্নতার কথা বলে, অন্যদিকে পুরোনো স্বৈরতান্ত্রিক কৌশল ব্যবহার করলে, জনগণ দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নেয়। এনসিপির ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে।”
এদিকে, দলের পক্ষ থেকে ব্যর্থতা স্বীকার করে কিছুটা দায় স্বীকারও করা হয়েছে। এনসিপি নেতা মাহমুদুল হক মণি বলেন, ‘আমরা স্বতন্ত্রভাবে রাজনীতিতে শুদ্ধতা আনার চেষ্টা করছি। তবে স্বীকার করছি, সাংগঠনিক কিছু দুর্বলতা ছিল। একই দিনে ছাত্রদলের বড় কর্মসূচি থাকায় অনেকে সেদিকেই ঝুঁকে গেছেন।’
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বিশ্লেষকরা। শিক্ষক ও বিশ্লেষক ড. ফারহানা সাবরীন বলেন, ‘এনসিপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড রাজনীতিতে শালীনতা নয়, বরং সংঘাত ও পেশিশক্তির সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনছে। তাদের কিছু নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে, আর অনলাইনে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে তারা বারবার হতাশ করেছে।’
প্রসঙ্গত, রবিবার রাজধানীতেই অনুষ্ঠিত হয় বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সমাবেশ। এতে অংশ নেয় সারা দেশ থেকে আগত হাজার হাজার নেতাকর্মী। বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রদলের কর্মসূচি শুধু সংগঠনগতভাবে নয়, জনআবেগ ও রাজনৈতিক বার্তা, দুই দিক থেকেই সফল হওয়ায় অন্য সমাবেশগুলো প্রচারের দিক থেকে অনেকটাই চাপা পড়ে যায়।
এনসিপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলটির সামনে আরও কিছু কর্মসূচি রয়েছে। তবে শহীদ মিনারে আয়োজিত এই সমাবেশে জনসমাগমের ভাটার টান দলটির রাজনৈতিক সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড