খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ আগস্ট ২০২৫
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজনপুর জেলায় পরিবারের অমতে বিয়ে করার ‘অপরাধে’ এক দম্পতিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সংঘটিত এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাকলাইন ও আয়েশা নামে এক নবদম্পতি। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকারী আয়েশার ভাই এবং তাকে আটক করা হয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, ঘটনার সময় আয়েশা ও সাকলাইন নিজেদের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ আয়েশার ভাই বাড়িতে ঢুকে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুজনই। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তবে, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।
জেলা পুলিশ অফিসার ফারুক আমজাদ ডন-কে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছি। প্রাথমিক তদন্তে এটি ‘অনার কিলিং’ বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
এ ঘটনার সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে পাকিস্তানে এর আগেও ঘটে যাওয়া একাধিক তথাকথিত ‘সম্মান রক্ষার হত্যাকাণ্ড’-এর সঙ্গে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে বেলুচিস্তানে প্রেমের সম্পর্কের জেরে গুলি করে হত্যা করা হয় আরেক প্রেমিক যুগলকে। সে ঘটনায় পুলিশের ভাষ্য ছিল, এক গোত্রপ্রধানের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ওই গোত্রপ্রধান সম্পর্কটিকে নিজের গোত্রের ‘সম্মানের জন্য হুমকি’ বলে মনে করেছিলেন। ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, পাকিস্তানে প্রতিবছর শত শত অনার কিলিংয়ের ঘটনা ঘটে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালেই দেশটিতে অন্তত ৩৩৫ নারী ও ১১৯ পুরুষ এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা, কারণ অনেক ঘটনাই গোপনে থেকে যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নারীদের নিজেদের পছন্দে বিয়ে করা, বিবাহবিচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া বা সামাজিক রীতিনীতির বাইরে যাওয়ার মতো কারণেই অধিকাংশ অনার কিলিং ঘটে। পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং দুর্বল আইন প্রয়োগের সুযোগে এই অপরাধের শিকার হয় বহু নারী ও পুরুষ।
উল্লেখযোগ্যভাবে ২০১৬ সালে পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়া তারকা কান্দিল বালুচকেও তাঁর ভাই ‘পরিবারের সম্মান’ রক্ষার কথা বলে হত্যা করেছিলেন। সেই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং আইনি সংস্কারের দাবি ওঠে। পরবর্তীতে পাকিস্তানে অনার কিলিংয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে আজীবন কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়। তবে আইন পরিবর্তন হলেও এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড থেমে নেই।
খবরওয়ালা/এসআই