খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট ২০২৫
গুম, বেআইনি আটক ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আয়নাঘর ও গোপন বন্দিশালার ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে রেজিস্ট্রি ডাক ও ই-মেইলের মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠান। এতে বলা হয়, আয়নাঘরসহ গোপন বন্দিশালায় বেআইনিভাবে আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রতিদিনের জন্য ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং গুম বা নির্যাতনে নিহতদের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাব মহাপরিচালককে।
আইনজীবী মাহমুদুল হাসান জানান, ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করা হবে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কোনো আদালতের পরোয়ানা বা আইনানুগ বিচারপ্রক্রিয়া ছাড়াই অসংখ্য ব্যক্তিকে গুম, আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিহতদের মরদেহও ফেরত দেওয়া হয়নি, যা আন্তর্জাতিক আইনে ‘enforced disappearance’ বা বলপূর্বক গুম হিসেবে বিবেচিত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২, ৩৩ ও ৩৫(৫) অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। এসব অনুচ্ছেদে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, গ্রেপ্তারের পর বিচারিক সহায়তা এবং নিষ্ঠুর-অমানবিক দণ্ডের বিরুদ্ধে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে আরও দাবি করা হয়, এ ধরনের রাষ্ট্র পরিচালিত বেআইনি কর্মকাণ্ড ‘Constitutional Tort’-এর আওতাভুক্ত এবং এতে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য। তবে এই ক্ষতিপূরণ রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে নয়, বরং এসব ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জব্দকৃত সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব বাজেয়াপ্ত করে একটি ‘ন্যাশনাল কমপেনসেশন ফান্ড’ গঠন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত ‘গুম কমিশন’ কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদনে আয়নাঘর ও অন্যান্য বন্দিশালায় গুম, বেআইনি আটক, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সত্যতা মিলেছে। তবুও বর্তমান সরকার এখনো পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনমূলক পদক্ষেপ নেয়নি, যা ‘বিচার বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার’—এই নীতির পরিপন্থী।
সবশেষে, নোটিশে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিচারিক কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। এই কমিশনের দায়িত্ব হবে নির্যাতিতদের শনাক্ত করা, আটককাল নির্ধারণ, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা। কমিশনের প্রতিবেদন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে এবং তার বাস্তবায়নে বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
খবরওয়ালা/এমএজেড